শিরোনাম :
সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের কোটা নির্ভরতা ছেড়ে মালয় ও বুমিপুত্রদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কেদাহতে চালচাষীদের সার সরবরাহে বিলম্ব: এমএসিসির তদন্ত শুরু জাকার্তায় আটকে পড়া মালয়েশিয়ানদের পাশে এক ইন্দোনেশীয় নারী নেপালে পৌঁছেছে মালয়েশিয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘স্মার্ট’ দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত

জলবায়ু পরিবর্তনে চরম দারিদ্র্যের মুখে আরও ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫

ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই — জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। নতুন প্রকাশিত “The Future of Poverty” শীর্ষক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বিশ্বজুড়ে চরম দারিদ্র্যের শিকার মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় চরম সংকটের পূর্বাভাস

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়াতেই ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, জলবায়ু ধাক্কা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক দেশের জাতীয় আয় হ্রাস করছে। বিশেষ করে, যেসব উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সমৃদ্ধ দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নত দেশগুলো জলবায়ু সংকট তৈরিতে সবচেয়ে বেশি দায়ী হলেও, ক্ষতির বড় অংশ বইতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে। বিশ্বব্যাংক উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন প্রযুক্তিগত সহায়তা, অর্থায়ন এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়ায়।

এছাড়া, আয় বৈষম্য বাড়তে থাকলে দারিদ্র্যের হার আরও দ্রুত বাড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দারিদ্র্য মোকাবেলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যবৃদ্ধির হুমকি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দরিদ্র জনগণের ওপর। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বেশিরভাগ পরিবার আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ খাদ্য কেনায় ব্যয় করে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং পুষ্টিহীনতার হার আরও বাড়তে পারে।

বৈশ্বিক উৎপাদন কমে যেতে পারে ২৩%

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে যদি কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদন ২৩% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই ক্ষতির বেশিরভাগই হবে গরম অঞ্চলের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে, যাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এমনিতেই দুর্বল।

এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহ ভবিষ্যত

প্রতিবেদনটি শেষ হয়েছে একটি কঠোর সতর্কবার্তায়:

“যদি আমরা এখনই কাজ না করি, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক দারিদ্র্য ও বৈষম্য আরও তীব্র করে তুলবে।”

বিশ্বব্যাংক বলছে, এই সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি, নইলে বিগত কয়েক দশকের অগ্রগতি ধ্বংস হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »