অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ আগেই শেষ হলো।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটের দিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত একটি গাড়ি এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) দুটি প্রটোকল গাড়ি জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করে। এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে শিগগিরই জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন স্পিকার।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। একই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সাংবিধানিক পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়। এ সময় সংসদ বিলুপ্ত করা এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন শাহাবুদ্দিন।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সংগঠন ও ছাত্রনেতারা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানান। এ দাবিতে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে পদ থেকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় পায় বিএনপি। এর ফলে দলটি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার সাংবিধানিক সুযোগ পায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদ থেকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এখন রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।