ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি মালয়েশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নুরদিন বলেছেন, কয়েকজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত ও দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও ইসরায়েল বিষয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান আগের মতোই রয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) জোহর বাহরুতে সভায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ খালেদ বলেন, ‘ইসরায়েল বিষয়ে আমাদের নীতি দীর্ঘদিনের। কোনো ইসরায়েলি নাগরিক এতে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপও সেই দীর্ঘদিনের নীতিরই বাস্তবায়ন।’
ফরেস্ট সিটির নেটওয়ার্ক স্কুলের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি আটজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা মালয়েশিয়া ইসরায়েলি নাগরিকদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের নীতি পরিবর্তন না করলে দেশটির সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের জন্য মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই অবস্থানকে তাঁদের নিজস্ব বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মার্কিন সরকার যদি এসব কর্মসূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি তাদের বিষয়। তবে তাদের বুঝতে হবে, ইসরায়েল বিষয়ে মালয়েশিয়ার এই নীতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।’
মোহাম্মদ খালেদ আরও বলেন, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। মালয়েশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন কোর্স ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এসব কোর্সের কোনোটি এক বছর, কোনোটি দেড় বছর, আবার কোনোটি দুই বছর পর্যন্ত চলে।
এসব সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে মালয়েশিয়া কোনো সামরিক অর্থায়ন পায়, এমন দাবিও নাকচ করে দেন তিনি। তাঁর মতে, ‘এখানে কোনো অর্থায়নের বিষয় নেই। এগুলো সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি।’
ফরেস্ট সিটির নেটওয়ার্ক স্কুলের কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের পর ইসরায়েলি নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয় আইন ও বিধি না মানার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
মোহাম্মদ খালেদ বলেন, ইসরায়েল বিষয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান দেশটির দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ। এ বিষয়ে কোনো দেশেরই অবাক হওয়ার কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা জানে, মালয়েশিয়ার এই নীতি সব সময়ই ছিল। এখনকার অবস্থানের সঙ্গে আগের অবস্থানের কোনো পার্থক্য নেই।’