মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীদের বৈধ অভিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। তবে বৈধ ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া দেশটিতে প্রবেশের অভিযোগে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর আওতায় মামলা করা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
আজ শুক্রবার মালয়েশিয়ার সংবাদ সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুই ধরনের অপরাধে মামলা থেকে অব্যাহতি ছাড়া ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীরা মালয়েশিয়ার প্রচলিত সব আইনের আওতাভুক্ত থাকবেন।
এদিকে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেন, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে অভিবাসন বিভাগ। জেআইএম বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও আইনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জেআইএম তা বুঝতে পারছে। তবে বিদেশি নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। সব পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী নেওয়া উচিত।’
কোনো বিদেশি নাগরিক অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করছেন, এমন তথ্য থাকলে তা অভিবাসন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেআইএম। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।
এর আগে গত সোমবার ভোরে ১১৩ জন অভিবাসী তিনটি বাসে করে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। তাঁদের মধ্যে ১১০ জন ছিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থী। পেনাংয়ে তাঁদের বসতি উচ্ছেদ করার পর তাঁরা রাজধানীতে আসেন।
পরে তাঁরা অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ের বাইরে তাঁবু স্থাপন করেন। নথিপত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাঁদের পরে কুয়ালালামপুর পুলিশ কন্টিনজেন্ট সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর এনজিও ও ইউএনএইচসিআরের সমন্বয়ে তাঁদের পর্যায়ক্রমে তিনটি রাজ্যে স্থানান্তর করা হয়।