মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার ন্যাশনাল ট্রেনিং উইক উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আনোয়ার বলেন, দেশটির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ঘটনাই প্রমাণ করে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে মামলা দিই না। তদন্ত করে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) ও পুলিশ। মামলা পরিচালনা করে অ্যাটর্নি জেনারেলের চেম্বার। আর মামলার রায় দেন আদালত।’
আনোয়ার আরও জানান, তাবুং হাজি (হজ তহবিল) নিয়ে গঠিত রয়্যাল কমিশন অব ইনকোয়ারির (আরসিআই) প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে আগামী বুধবার মন্ত্রিসভায় আলোচনা করবেন তিনি। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশের অনুমোদন দেবে বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বুধবার মন্ত্রিসভায় বিষয়টি তুলব। আমি বিশ্বাস করি, মন্ত্রিসভা এতে সম্মতি দেবে।’
আনোয়ার জানান, তাবুং হাজির সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে এত দিন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন প্রতিবেদনটি প্রকাশের জন্য সরকার প্রস্তুত।
তাঁর মতে, তাবুং হাজির ব্যবস্থাপনায় এখন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে এবং সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে।
সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়ম বন্ধে তাঁর প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান আনোয়ার। তিনি বলেন, দুর্বল সুশাসনের কারণে সরকারকে বড় ধরনের আর্থিক চাপ বহন করতে হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে এফইএলডিএ’র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় বিশ্বের অন্যতম সফল বাগানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ছিল এটি। কিন্তু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বিলিয়ন রিঙ্গিত লোকসানে পড়ে। এখন ফিল্ডার ঋণের বোঝা সামলাতে সরকারকে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ দিতে হচ্ছে।
আনোয়ার বলেন, সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সততা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেওয়া গেলে মালয়েশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ন্যাশনাল ট্রেনিং উইকের আওতায় তরুণদের প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বানও জানান তিনি। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো আরও উন্নত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এমন একটি সরকার গড়ে তোলা, যা জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং প্রতিটি মালয়েশীয় নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’