পুত্রাজায়া , ২০ অক্টোবর : সৌদি আরব ১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ সালের হজ মৌসুমের জন্য নতুন স্বাস্থ্যবিধি জারি করেছে। এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) বা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা আগামী বছর হজ পালন করতে পারবেন না।
লেম্বাগা তাবুং হাজি জানিয়েছে, হজ ভিসা পাওয়ার আগে এখন প্রত্যেক সম্ভাব্য হাজীর জন্য নতুন স্বাস্থ্য শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রধান শর্তগুলোর একটি হলো, হাজীদের সংক্রামক বা নিয়ন্ত্রণহীন দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে এবং তারা যেন স্বনির্ভরভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।”
যেসব ব্যক্তি নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় ভুগছেন, তারা হজের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এসব অবস্থার মধ্যে রয়েছে, ক্রনিক কিডনি ফেইলিউর, হার্ট ফেইলিউর বা গুরুতর হৃদরোগ, মানসিক বা স্নায়ুবিক অসুস্থতা যা মস্তিষ্ক ও মোটর ফাংশনকে প্রভাবিত করে, বার্ধক্যজনিত ডিমেনশিয়া বা দুর্বলতা, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা, সক্রিয় সংক্রামক রোগ এবং চিকিৎসাধীন ক্যান্সার।
তাবুং হাজি-এর গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতুক সেরি মুস্তাকিম মোহাম্মদ বলেছেন, মালয়েশীয় হাজীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণই সংস্থাটির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, “হজ পালনের সময় হাজীদের স্বাস্থ্য আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের মতোই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা তাবুং হাজি এর সহায়তা দলে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।”
আগামী হজ মৌসুমে মক্কা ও মদিনায় হাজীদের প্রতিটি আবাসস্থলে স্বাস্থ্য ক্লিনিক চালু থাকবে। এসব ক্লিনিকে বহির্বিভাগীয় সেবা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত ফার্মেসি থাকবে।
তবে, মুস্তাকিম জানান,তাবুং হাজি আর নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার অনুমতি পাবে না সৌদি আরবে।
তিনি বলেন, “যেসব হাজীর অতিরিক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন হবে, তাদের সৌদি সরকারের পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হবে, যেখানে মালয়েশীয় চিকিৎসকরা তত্ত্বাবধান করবেন।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, সম্ভাব্য হাজীরা যেন শারীরিকভাবে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন, কারণ হজ একটি অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত যা গরম ও ধুলোময় পরিবেশে সম্পন্ন করতে হয়।
“হজ শারীরিকভাবে অনেক ধৈর্যের দাবি রাখে। তাই সবাইকে আগেভাগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে,” মুস্তাকিম যোগ করেন।