শিরোনাম :
অনলাইন প্রতারণা রোধে বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্ত শিগগিরই মন্ত্রিসভায় : ফাহমি ফাদজিল মেডিকেল ডিভাইস অনুমোদনে আসিয়ানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ, সমন্বয় করবে মালয়েশিয়া ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় ‘অপারেশন মেলানোপ্লাস’-এর আওতায় মাদকের বড় চক্রকে আটক করেছে পুলিশ ইন্দোনেশিয়ার মাদক চোরাচালান মামলায় দ্বিতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ নেপালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিবে উইস্মা পুত্রা: নাদমা সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের

১৪ বছরে কারাগারে, ৩৯ বছরে পিএইচডি: রাজকীয় ক্ষমায় বদলে যাওয়া এক জীবন

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

কুয়ালালামপুর, ৪ ফেব্রুয়ারি :  কিশোর বয়সে একটি খুনের মামলায় দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘ ২৪ বছর কারাবন্দি থাকার পর কারাগারেই পিএইচডি অর্জন করা এক সাবেক কিশোর বন্দিকে সেলাঙ্গরের সুলতানের সঙ্গে বিরল রাজকীয় সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সেলাঙ্গর রাজকীয় কার্যালয়ের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সেলাঙ্গরের সুলতান শরাফুদ্দিন ইদ্রিস শাহের সঙ্গে ড. মালিক ইয়াতামের এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ সাক্ষাৎকে আবেগঘন ও গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই রাজকীয় সাক্ষাৎকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই প্রথমবার যখন রাজকীয় ক্ষমায় মুক্তি পাওয়া কোনো সাবেক বন্দির সঙ্গে সেলাঙ্গরের সুলতান সরাসরি সাক্ষাৎ করলেন।

সাক্ষাতে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশ ছিল গম্ভীর ও আবেগপূর্ণ। ড. মালিক তার জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন—কিশোর বয়সে কারাগারে প্রবেশ, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দীর্ঘ বন্দিজীবন এবং অবশেষে শিক্ষা ও আত্মপরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন জীবনে ফিরে আসার গল্প।

ড. মালিক ইয়াতাম ২০০১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে একটি খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ‘সুলতানের সন্তুষ্টি অনুযায়ী আটকাদেশ’-এর আওতায় আটক হন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তিনি মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পান, তবে তার দণ্ডে কোনো নির্দিষ্ট মুক্তির সময়সীমা নির্ধারিত ছিল না।

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় কারাবন্দি থাকলেও তিনি শিক্ষা অর্জনের প্রতি অবিচল থাকেন। কেজাং কারাগারে বন্দি অবস্থায় তিনি ব্যবসা প্রশাসনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মালয়েশিয়ার ইতিহাসে কারাবন্দি অবস্থায় পিএইচডি অর্জনকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ড. মালিককে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

সেলাঙ্গরের সুলতানের জন্মদিন উপলক্ষে রাজকীয় ক্ষমা প্রদানের অংশ হিসেবে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান। এর আগে ২৪ নভেম্বর সেলাঙ্গর ক্ষমা বোর্ড তার মামলাটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে তার আচরণগত সংশোধন, শিক্ষাগত সাফল্য এবং ব্যক্তিগত পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে মুক্তির সুপারিশ করে।

রাজকীয় সাক্ষাতে সুলতান শরাফুদ্দিন ড. মালিকের মুক্ত জীবনের অভিজ্ঞতা, সমাজে পুনরায় খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সুলতান তার অধ্যবসায়, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ড. মালিক জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। একই সঙ্গে তিনি তাকে পরিবারের সুনাম রক্ষা, সৎ পরিশ্রমের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়া এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার আহ্বান জানান।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »