শেখ হাসিনা সরকারের প্রবণতা এই সরকারেও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল ময়দানে ফরিদপুর বিভাগীয় জাতীয় নাগরিক পার্টির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন হোসেন চুপ্পুকে অপসারণের আহ্বান জানান।
সরকারি দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত শেখ হাসিনার আমলে আমরা দেখেছিলাম কীভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ সবকিছু দলীয়করণ করা হয়েছিল। সেই একই প্রবণতা, এই সরকারের এক মাসও হয়নি; শুরু থেকেই আমরা তা দেখতে পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এ দেশে ৭ মার্চের নামে, মুক্তিযুদ্ধের নামে বা শেখ মুজিবের নামে যদি ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করা হয়, তাহলে এনসিপি তথা ১১ দল কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এ দেশের ফ্যাসিস্টদের কোনো ক্ষমা নেই। ফ্যাসিবাদের বিচার, ফ্যাসিস্টদের দোসরদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, এর কোনো বিচ্যুতি ঘটলে এগারো দলকেও, জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও চিন্তা করতে হবে; আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বাধ্য থাকব।
সরকারি দল একটি শপথ নিয়ে সবার আগে জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেঈমানি করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সেই নির্বাচনকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। জুলাই সনদের আদেশ অনুযায়ী আমরা শপথ নিয়েছি। অথচ সরকারি দল একটি শপথ নিয়ে সবার আগে জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেঈমানি করেছে।
তিনি আরও বলেন, তারা দুটি শপথ না নিয়ে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে জুলাই সনদের আদেশ, যেখানে গণভোট হয়েছে এবং জনগণ ব্যাপকভাবে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে তথা সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই গণভোটের বৈধতা নিয়েও তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোটের বৈধতা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের সরকারদলীয় পন্থী আইনজীবীরা আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
এ ছাড়া মিডিয়ার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে টার্গেট করা এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সারাদেশে নানা প্রক্রিয়ায়, নানা পাঁয়তারা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন মিডিয়া পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে টার্গেট করছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এবং এই নির্বাচনের পর থেকে সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও গ্রিন সিগনালে তারা ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। বিভিন্ন মিথ্যা ও অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই ফ্যাসিস্টদের কোনো ক্ষমা নেই। ফ্যাসিস্টদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে। শহীদ ওসমান হাদীকে যারা খুন করেছে, তাদের বিচারও এই বাংলার মাটিতেই হবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাকে ভুলুণ্ঠিত করেছে সেই ফ্যাসিস্ট দোসররা। গত ১৭ বছর ধরে শেখ মুজিবের নামে, ৭ মার্চের নামে তাদের সব অপকর্ম লুণ্ঠন, গণহত্যা, গুম-খুন বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখনও আমরা একই প্রচেষ্টা দেখতে পাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিব ও ৭ মার্চের নামে ফ্যাসিবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার একটি বৈধতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই এই ধরনের চেষ্টায় কোনো লাভ হবে না।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখপাত্র সারজিস আলম, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস মোল্যা, ফরিদপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রার্থী ও দলটির শুরা সদস্য প্রফেসর আব্দুত তাওয়াব, জেলা আমির মাওলানা বদরুদ্দীনসহ অনেকে। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।