আঙ্কারা: কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর সঙ্গে শান্তি উদ্যোগের অগ্রগতির পর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের সুলাইমানিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরোপিত ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে তুরস্ক।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) রাতে কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি-এর কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়। এর আগে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান-এর সঙ্গে আঙ্কারায় এক বৈঠকে অংশ নেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা তুরস্ক, ইরাক ও কুর্দি অঞ্চলের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং শান্তি উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
২০২৩ সালে তুরস্ক সুলাইমানিয়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, কারণ তখন এলাকায় পিকেকে-র কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল, যা বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করেছিল।
পিকেকে (PKK) তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। এই গোষ্ঠী কয়েক দশক ধরে তুরস্কে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে, যা ইরাক ও সিরিয়ার অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে পড়ে এবং এখন পর্যন্ত দশ-হাজারেরও বেশি প্রাণহানি ঘটিয়েছে।
তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে পিকেকে অস্ত্র ত্যাগ করে রাজনৈতিক শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। জুলাই মাসে সুলাইমানিয়া এলাকায় এক প্রতীকী নিরস্ত্রীকরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করে।
কুর্দিস্তান আঞ্চলিক প্রেসিডেন্সি তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে “দুই পক্ষের সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতিফলন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
জাতীয় বিমান সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইনসও ফ্লাইট পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ইয়াহিয়া উস্তুন এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে বলেন—
“জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন হিসেবে আমরা গর্বের সঙ্গে বিশ্বের আকাশে তুরস্ককে প্রতিনিধিত্ব করি। সেই লক্ষ্যেই আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, খুব শিগগিরই সুলাইমানিয়া রুটটি পুনরায় চালু হবে।”
এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো যখন ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন আঙ্কারায় তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে জলবণ্টন ইস্যু এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বাগদাদ অভিযোগ করেছে, তুরস্কের বাঁধ নির্মাণের কারণে ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পানি প্রবাহ কমে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুলাইমানিয়া বিমানবন্দর পুনরায় চালুর এই সিদ্ধান্ত তুরস্কের কুর্দি আঞ্চলিক সরকার ও বাগদাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।