রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নথিপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর সহযোগিতা না করলে মালয়েশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, শরণার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষকেও যুক্ত করা উচিত। এতে শরণার্থী হিসেবে নথিপত্র দেওয়ার আগে তাঁদের পরিচয় ও অবস্থান আরও কঠোরভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহামাদ হাসান বলেছেন, ‘আমরা সহযোগিতা এবং কঠোর যাচাই-বাছাই চাই। তারা যদি সহযোগিতা করতে না চায়, তাহলে আমার মতে, মালয়েশিয়ায় ইউএনএইচসিআরের উপস্থিতি পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে। যাতে আমরা এভাবে ক্রমাগত চাপের মধ্যে না থাকি।’
এর আগে, সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীকে আটক করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পেনাংয়ে নিজেদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর সহায়তার আশায় তাঁরা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন।
মোহামাদ হাসান আরও অভিযোগ করেন, ইউএনএইচসিআরের উপস্থিতির কারণে মালয়েশিয়া শরণার্থীদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। এর মধ্যে মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা মুসলিমরাও রয়েছেন।
তবে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আটক রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের নথিপত্র যাচাই করতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের বিকল্প আবাসনে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, আটক রোহিঙ্গাদের কাছে ইউএনএইচসিআরের বৈধ নথিপত্র রয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁদের কুয়ালালামপুর পুলিশ সদর দপ্তরে অস্থায়ীভাবে রাখা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে ইউএনএইচসিআর।