শিরোনাম :
অনলাইন প্রতারণা রোধে বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্ত শিগগিরই মন্ত্রিসভায় : ফাহমি ফাদজিল মেডিকেল ডিভাইস অনুমোদনে আসিয়ানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ, সমন্বয় করবে মালয়েশিয়া ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় ‘অপারেশন মেলানোপ্লাস’-এর আওতায় মাদকের বড় চক্রকে আটক করেছে পুলিশ ইন্দোনেশিয়ার মাদক চোরাচালান মামলায় দ্বিতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ নেপালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিবে উইস্মা পুত্রা: নাদমা সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের

যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে তিন শত্রু দেশের সাথে ভেনেজুয়েলা

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫
মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকায় ক্ষয়িষ্ণু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনে রাশিয়া, চীন ও ইরানের দিকে ঝুঁকছে ভেনেজুয়েলা। মার্কিন গোপন নথির বরাতে শুক্রবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

নথি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো রাডার সিস্টেম, যুদ্ধবিমান মেরামত এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য এসব দেশের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে লেখা এক চিঠি মাদুরোর এক শীর্ষ উপদেষ্টা চলতি মাসের শুরুতে মস্কো সফরের সময় হস্তান্তর করেন। একইভাবে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছেও ‘বিস্তৃত সামরিক সহযোগিতা’ চেয়ে একটি পত্র পাঠান মাদুরো। তাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চীনা রাডার উৎপাদন দ্রুততর করার আহ্বান জানান।

মার্কিন নথিতে বলা হয়েছে, মাদুরো তার বার্তায় মার্কিন আগ্রাসনকে শুধু ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নয়, বরং চীনের আদর্শের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার দিকেও অগ্রসর হচ্ছে কারাকাস। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী রামন সেলেস্টিনো ভেলাসকেজ ইরান থেকে সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে “প্যাসিভ ডিটেকশন ইকুইপমেন্ট”, “জিপিএস স্ক্র্যাম্বলার” এবং “প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পাল্লার ড্রোন” সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন।

২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এটি মাদুরোর জন্য অন্যতম বড় কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জলসীমা থেকে মাদকবাহী জাহাজ ধ্বংসের নামে এক ডজনের বেশি অভিযান চালিয়েছে, যাতে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখনো এসব অভিযানের কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গত অক্টোবরে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন কর্মকাণ্ড নিয়ে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করেন। বুধবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, মস্কো ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সমাধানের পক্ষে।

অক্টোবরের মাঝামাঝি ভেলাসকেজ মস্কো সফরে গিয়ে রুশ পরিবহনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পুতিনের উদ্দেশে মাদুরোর বার্তাটি হস্তান্তর করেন। তাতে রুশ তৈরি সুখই সু-২০এমকে২ যুদ্ধবিমান পুনর্গঠনের অনুরোধসহ আটটি ইঞ্জিন ও পাঁচটি রাডার মেরামতের আবেদন জানানো হয়। এছাড়া ১৪ সেট রুশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং লজিস্টিক সহায়তার অনুরোধও করেন মাদুরো।

মার্কিন নথি অনুযায়ী, মাদুরো উল্লেখ করেন—রুশ সুখই জেটগুলোই ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ শক্তি, এবং তিনি রোস্তেকের মাধ্যমে তিন বছরের একটি মধ্যমেয়াদি অর্থায়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন।

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ অস্ত্রই পুরোনো ও অকেজো। এক সাবেক ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, “চাভেজ রাশিয়া থেকে হেলিকপ্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছিলেন, কিন্তু সেগুলোর বেশিরভাগই এখন অচল। রাশিয়া আসলে আমাদের পুরোনো জিনিস বিক্রি করেছিল।”

তবুও চলতি মাসে মাদুরো দাবি করেছেন, দেশজুড়ে প্রায় ৫ হাজার রুশ নির্মিত ইগলা-এস বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »