মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রবাসীদের হয়রানি এটি কোনো নতুন কিছু নয়। অভিবাসন বিভাগের হাতে আটক প্রবাসীদের সাজা শেষ হওয়ার পরেও দেশে নিজের পরিবারের কাছে ফিরি যেতে পড়তে হতো ট্রভেল পাস বিড়ম্বনায়। অসহায় শ্রমিকদের শোষণ এর প্রতিবাদ করলে হয়রানি করা সহ অপমান থেকে রক্ষা পাইনি প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠে ট্রাভেলপাস সিন্ডিকেট এবং অমানবিক ভাবে প্রবাসীদের হয়রানি । ০৩ মার্চ ২০২৪ বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক কালবেলায় “মালয়েশিয়ার জেলের চাবি এনজেড ট্রাভেলসের হাতে” এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরে নড়েচড়ে বসে উভয় দেশের সংস্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ।
এরই প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার জেলের চাবি এনজেডের হাতে শিরোনামে কালবেলায় প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে দুতাবাসের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে ১৪ মে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রলায়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ সারওয়ার আলমের স্বাক্ষরিত তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দুতাবাসে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দশনায় ডেপুটি হাইকমিশনার খুরশেদ আলম খাস্তগিরকে আহ্বয়াক করে হাইকমিশনের ১ম সচিব সুমন চন্দ্র দাস এবং ১ম সচিব রাসেল রানা ( জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ) এবং কর্মচারী মুখলেছ আলীর বিরুদ্ধে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
অপরদিকে পিবিএন এর অনুসন্ধানে ১ম সচিব সুমন চন্দ্র দাসের অফিস সহকারী শিহাব হোসাইনের সাথে ভুক্তোভুগীর কথোপকথনের মাধ্যমে ট্রভেল পাস বিড়ম্বনার দুর্নীতির প্রমান উঠে আসে।
তদন্ত কমিটির আহ্বয়াক ডেপুটি হাইকমিশনার খুরশেদ আলম খাস্তগিরের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয় হাইকমিশনের কতিপয় কর্মকর্তা- কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও অনিয়মের বিষয় অভিযোগে বর্ণিত হয়েছে , যা সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এ বর্ণিত সরকারি কর্মচারীগণের অনুসরণীয় নীতি, আচরণ শৃঙ্খলা এবং সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা- ২০১৮ পরিপন্থি।
উল্লেখ্য “দৈনিক কালবেলার প্রকাশিত অনুসন্ধানী সংবাদে দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা চক্র মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জেলখানায় আটক শ্রমিকদের দেশে পাঠানোর নাম টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এবং কেউ কেউ মানব পাচারের সাথে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।