মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্যাতন করা হয়, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল। প্রতিবেদনে এক বাংলাদেশি বন্দির বরাতে দাবি করা হয় যে, ডিপোতে বন্দিদের অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয় এবং চিকিৎসা সুবিধাসহ মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ অভিযোগকে “অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর” বলে উল্লেখ করে বলেন, মালয়েশিয়া কখনোই ইমিগ্রেশন ডিপোতে নির্যাতনকে প্রশ্রয় দেয় না। তিনি দাবি করেন, ডিপোতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান নিশ্চিত করেই করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “নিউ ইয়র্ক টাইমস যেভাবে ঘটনাটি তুলে ধরেছে, তা মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা। এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আমরা সবসময় নিয়মমাফিক ও মানবিক আচরণ করে থাকি।”
সাইফুদ্দিন জানান, ডিপোর ভেতরের পরিস্থিতি যাচাই করতে চাইলে ইউএনএইচসিআর বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারে। তিনি দাবি করেন, এ বছর মাত্র দুটি পরিদর্শন–অনুরোধ পাওয়া গেছে এবং মালয়েশিয়া কখনোই প্রবেশাধিকার “বাধা” দেয়নি।
বাংলাদেশি নাগরিকের বক্তব্যকে তিনি “একতরফা মন্তব্য” উল্লেখ করে বলেন, যাচাই ছাড়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমের এমন প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে। তিনি বিদেশি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, অভিযোগ উঠলে তা স্বাধীনভাবে তদন্ত করা জরুরি। তবে মালয়েশিয়া সরকার বলছে, ডিপোর ভেতরে যেকোনো অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই চালু আছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করছে।
ইমিগ্রেশন ডিপো–সংক্রান্ত নতুন এই বিতর্ক দেশটির অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।