আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়াতে একটি বিমানবাহী রণতরী “ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড (USS Gerald R. Ford)” এবং তার সঙ্গে থাকা পাঁচটি ধ্বংসজাহাজ (ডেস্ট্রয়ার) লাতিন আমেরিকার সমুদ্রসীমায় মোতায়েন করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি বড় সামরিক পদক্ষেপ, যা ভেনেজুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্দেশ করছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, “এই রণতরী মোতায়েনের উদ্দেশ্য হলো লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম নজরদারি ও প্রতিরোধের সক্ষমতা বাড়ানো।” বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার মার্কিন নৌসদস্য ও মেরিন সেনা আটটি যুদ্ধজাহাজে অবস্থান করছে। নতুন রণতরী যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা আরও বাড়বে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি সিআইএ (CIA)-কে ভেনেজুয়েলায় অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় অভিযোগ উঠেছে যে দেশটির অভ্যন্তরে কিছু সরকারি ব্যক্তি অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত, যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অভিবাসন সমস্যা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই অভিযোগের পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ বলেন, “এটি গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি। আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রতিরোধ দেখাব।”
এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পররাষ্ট্রনীতির অংশ, যা শুধু মাদক বা নিরাপত্তা ইস্যু নয়— বরং ভেনেজুয়েলার সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে। ফলে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও এর প্রভাব পড়বে।