বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে কঠিন ষড়যন্ত্র করছে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা! দেশবাসীকে সশস্ত্র বাহিনীর পাশে থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণবিপ্লবের মুখে ভেতরের নতজানু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে যে পরিবর্তন আসে, তার পর পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব একেবারে নিঃচিহ্ন হয়ে যায়।
বাংলাদেশ নতুন করে নিজের সক্ষমতায় যখন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পথচলা শুরু করেছে, ঠিক তখনই ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ভারতের পোষা রাজনীতিবিদদের কাঁধে ভর করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে টার্গেট করে বিশেষ গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জঙ্গি বাহিনী হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যখন বাংলাদেশ সামরিক সক্ষমতায় শক্তিশালী হচ্ছে, তখন তা ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী। প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তাও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে চাপে ফেলতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার নাটকীয় মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিশেষ করে এখন তাদের প্রধান টার্গেট দেশের সশস্ত্র বাহিনী। যদি সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের মাটিতে আবারও বিদেশি শক্তির আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পাশের দেশ ভারত এখন রাজনৈতিকভাবে কিছুটা দিশাহীন অবস্থায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ইউনূস বাংলাদেশকে মেরুদণ্ড সোজা করে ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলার কৌশল শিখিয়েছেন।
এছাড়াও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের বিরোধী দলের ভূমিকা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষমতার মোড়ে দেশপ্রেমিক দুই দলের ভূমিকা এখন ভারতের বড় মাথাব্যথা। অন্যদিকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গৃহযুদ্ধসহ সকল ধরনের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই রাজনৈতিক মতবিরোধ দূরে রেখে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বসে থাকা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ বিদেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সাহস না পায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ভারতের নীতি নির্ধারকরা কখনোই বিএনপি-জামায়াত জোটকে পুরোপুরি বিশ্বাস করে না, এবং অতীতেও রাজনৈতিক নেতাদের নানা চাপ ও দমন-পীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তাদের মতে, বিডিআর বিদ্রোহসহ বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার সক্ষমতা ও ধৈর্যের মাধ্যমে টিকে আছে এবং শক্তিশালী হয়েছে।
এখন বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেখানে দেশকে আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র উভয়ই মোকাবিলা করতে হবে।
শেষে বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে দেশবাসীকে সশস্ত্র বাহিনীর পাশে দাঁড়াতে হবে এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি প্রভাব বা ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।