দামেস্ক, ১৫ জুলাই — সিরিয়ার সুইদা প্রদেশে দ্রুজ মিলিশিয়া ও বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যেই ইসরায়েল দক্ষিণ সিরিয়ায় সিরীয় সামরিক ট্যাংকের উপর বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার পর্যন্ত এই সহিংসতায় অন্তত ৩০ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা Syrian Observatory for Human Rights দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৫০ জন, যাদের মধ্যে দুই শিশু ও ছয়জন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় একটি অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রামি আবদুররহমান জানান, এক তরুণ দ্রুজ সবজি বিক্রেতাকে বেদুইন গোষ্ঠীর সদস্যরা একটি চেকপয়েন্টে আক্রমণ ও লুটপাট করে, যার পরপরই পাল্টা অপহরণ ও প্রতিশোধমূলক হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে।
সোমবার ভোরে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুইদা শহরে প্রবেশ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নূরুদ্দিন আল-বাবা রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেন:
“অবৈধ অস্ত্রধারী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কিছু সংঘর্ষ হয়েছে, তবে আমাদের বাহিনী বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি কমাতে সচেষ্ট।”
এই সহিংসতার মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ায় সিরীয় সামরিক ট্যাংকের উপর হামলা চালায়, যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (IDF) আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর উপস্থিতি মোকাবেলায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে।
সুইদা অঞ্চলে অবস্থানরত দ্রুজ সম্প্রদায়, যারা ১০ম শতকে ইসমাইলি শিয়াদের থেকে উৎপত্তি লাভ করে, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় থেকে স্বতন্ত্র মিলিশিয়া গঠন করে এসেছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর, নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে দ্রুজদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতিকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা” বলে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে যে, সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুপস্থিতি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা এই সহিংসতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা এ অঞ্চলে আরও সহিংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে সুইদার এই গোষ্ঠীগত সংঘর্ষ দ্রুত আরও বিস্তৃত রূপ নিতে পারে এবং দক্ষিণ সিরিয়ার স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।