কুয়ালালামপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর: কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দরের তালিকায় উঠে এসেছে। মাত্র ছয় মাস আগে এটি ছিল চতুর্থ স্থানে।
ব্রিটেনভিত্তিক বৈশ্বিক ভ্রমণ তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান OAG Aviation জানিয়েছে, চলতি আগস্ট মাসে KLIA-তে যাত্রী আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩.৩২ মিলিয়ন, যা মার্চ মাসের ৩.০২ মিলিয়ন থেকে প্রায় ১০% বৃদ্ধি। শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর, যেখানে আগস্টে ৩.৫৮ মিলিয়ন আসন রেকর্ড হয়েছে।
মালয়েশিয়া এয়ারপোর্টস হোল্ডিংস বিডি (MAHB) জানিয়েছে, KLIA-র এই উন্নতির পেছনে রয়েছে নতুন এয়ারলাইনের সংযোজন, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং চীন ও ভারতের পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ নীতি।
KLIA বর্তমানে ১১৭টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংযুক্ত, যা গত বছরের ১০৫টির তুলনায় বেশি। বিমানসংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬টিতে, যেখানে গত বছর ছিল ৫৯টি।
এপ্রিলে পাঁচ বছর পর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ পুনরায় KLIA থেকে ফ্লাইট চালু করেছে। এছাড়াও নতুন যুক্ত হয়েছে, Juneyao Air, Jiangxi Air, Lucky Air, Fits Air ও Hainan Airlines।
চীন ও ভারতের পর্যটকদের জন্য মালয়েশিয়ার ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ (ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত) যাত্রী বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। MAHB-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাতুক মোহদ ইজানি ঘানি বলেন, “এটি শুধু যাত্রীসংখ্যাই বাড়ায়নি, KLIA-কে আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব হিসেবেও শক্তিশালী করেছে।”
মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস সম্প্রতি প্যারিস শার্ল দ্য গল (CDG) রুট পুনরায় চালু করেছে, যা কয়েক বছর আগে বন্ধ ছিল। অন্যদিকে এয়ারএশিয়া তাদের নেটওয়ার্ক ও গন্তব্য সংখ্যা আক্রমণাত্মকভাবে বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষক শुकুর ইউসুফ বলেন, “এয়ারএশিয়ার সম্প্রসারণ এবং মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ভারতীয় উপমহাদেশে ফ্লাইট বাড়ানো KLIA-র” উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে।”
আগস্টে KLIA-তে আসন সংখ্যায় গত বছরের তুলনায় ৭.৫% বৃদ্ধি হয়েছে, যা আসিয়ান অঞ্চলে চতুর্থ সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে ভিয়েতনামের হ্যানয়ের নয় বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (১৩%)।
বাড়তে থাকা যাত্রীর চাপ সামাল দিতে KLIA-তে ৩০ মিলিয়ন রিঙ্গিত ব্যয়ে আধুনিকায়ন চলছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন আসন ব্যবস্থা, হালনাগাদ ট্রলি, পরিবারবান্ধব পার্কিং, উন্নত সাইনেজ এবং সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী।
ইউনিভার্সিটি কুয়ালালামপুরের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. মোহদ হাররিদন বলেন, “KLIA এখন শুধু একটি বিমানবন্দর নয়, বরং এটি বাণিজ্য, কেনাকাটা ও খাবারের জন্যও একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, “চেক-ইন ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া আরও সহজীকরণ করলে KLIA-র দক্ষতা আরও বাড়বে।”
@পিবিএন সংবাদ