আদেন : দক্ষিণ ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর ওপর সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইয়েমেন সংকটে সৌদি আরব ও ইউএই–সমর্থিত শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ওয়াদি হাদরামাউত ও হাদরামাউত মরুভূমি অঞ্চলে ইউএই–সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ আবদুলমালিক জানান, শুক্রবার আল-খাসাহ সামরিক ঘাঁটিতে সাত দফা বিমান হামলা চালানো হয়। এতে সাতজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন এবং ২০ জনের বেশি আহত হন। তিনি আরও বলেন, একই অঞ্চলের অন্যান্য স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে।
এই হামলাকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রথমবারের মতো এসটিসি সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বুহ মানসুর হাদিকে পুনর্বহাল এবং আনসারুল্লাহ আন্দোলনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় সৌদি আরব ও ইউএই উভয়ই একই জোটের অংশ ছিল।
গত মাসে এসটিসির ব্যাপক সামরিক অভিযানের পর এই হামলা চালানো হয়। ওই অভিযানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত ও মাহরা প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় এবং সৌদি–সমর্থিত ন্যাশনাল শিল্ড ফোর্সেসকে পিছু হটতে বাধ্য করে। এতে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হয় বলে জানা যায়।
হামলার কিছুক্ষণ আগেই সৌদি–সমর্থিত বাহিনী হাদরামাউতে সামরিক ঘাঁটি “শান্তিপূর্ণভাবে” নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। হাদরামাউতের গভর্নর ও সৌদি–সমর্থিত বাহিনীর কমান্ডার সালেম আল-খানবাশি বলেন, এই অভিযান যুদ্ধ ঘোষণার জন্য নয় এবং কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়; বরং শান্তিপূর্ণভাবে সামরিক স্থাপনা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে।
তবে সৌদি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে হামলাগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটই চালিয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র সতর্ক করে বলেন, “এসটিসি দুইটি প্রদেশ থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত এই অভিযান বন্ধ হবে না।”
দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আবারও আলাদা দক্ষিণ ইয়েমেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে, যা ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বাধীন ছিল।
এসটিসির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিনিধি আমর আল-বিধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি আরবের সমালোচনা করে বলেন, রিয়াদ ‘শান্তিপূর্ণ অভিযান’ ঘোষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছে। “তারা আদৌ শান্তিপূর্ণ থাকার কোনো ইচ্ছা রাখেনি—এর প্রমাণ হলো, ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে,” তিনি লেখেন।
একই দিনে ইয়েমেনে সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবির অভিযোগ করেন, সমাধানের লক্ষ্যে নির্ধারিত একটি সৌদি প্রতিনিধি দলকে এসটিসি আদেন শহরে অবতরণে বাধা দিয়েছে। তিনি এই আচরণকে “অবাধ্যতা” বলে আখ্যা দেন।
এদিকে এসটিসি-নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মন্ত্রণালয় আদেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ফ্লাইটগুলোকে জেদ্দায় থামিয়ে তল্লাশির সৌদি দাবির নিন্দা জানিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয়, সৌদি আরব এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আদেন ও ইউএইয়ের মধ্যে সব ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে।
সর্বশেষ এই সংঘর্ষ ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে একই জোটভুক্ত শক্তিগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।