ঢাকা, ২০ অক্টোবর: সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি আগামী মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৭ আগস্ট, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। এর পর ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কয়েকজন আপিল করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে, সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়ে সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করেন।
তবে রিট আবেদনকারীরা পরে আপিল করেন। ২০০৫ সালে করা ওই আপিলের রায়ে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন, যার ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়।
পরে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়। এর গেজেট প্রকাশিত হয় ৩ জুলাই ২০১১।
গত বছর সরকার পরিবর্তনের পর, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ড. বদিউল আলম মজুমদার, তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর ২০২৫, এবং জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে পৃথকভাবে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এছাড়া নওগাঁর রানীনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও গত বছর একই আবেদন করেন।
সবগুলো আপিল একত্রে আগামী মঙ্গলবার চূড়ান্তভাবে শুনানি হবে। এই শুনানির রায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।