কুয়ালালামপুর, ৫ জুলাই — বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় জিএমআরবি (বাংলাদেশের র্যাডিক্যাল মিলিটেন্ট মুভমেন্ট) নামক উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
আজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় ও অভিযোগের বিস্তারিত জানার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
“সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে এবং মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করা হবে,” — বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনকে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে, আর বাকি ব্যক্তিদের তদন্তাধীন রাখা হয়েছে অথবা নির্বাসনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে, মালয়েশিয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক দাতুক সেরি মোহদ খালিদ ইসমাইল জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ান আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে পরিচালিত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জিএমআরবি গোষ্ঠীর কার্যকলাপ শনাক্ত করা হয়। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) মতাদর্শ প্রচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
তিনি আরও জানান, এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত চালানো তিন ধাপের যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে ৩৬ জন জিএমআরবি সদস্য, যার মধ্যে সংগঠনের শীর্ষ নেতা-ও রয়েছেন, গ্রেফতার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জোহর রাজ্য থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল, এবং এই গ্রেফতারের মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে:
৫ জনকে মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৬এ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত উপাদান ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
১৬ জনকে ২০১২ সালের নিরাপত্তা অপরাধ (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন (SOSMA) অনুযায়ী আটক রাখা হয়েছে।
বাকি ব্যক্তিরা নির্বাসনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন।
এই অভিযান মালয়েশিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিদেশি উগ্রপন্থী কার্যকলাপ প্রতিরোধে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা বজায় রেখেছে, এবং উভয় দেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।