শিরোনাম :
নেপালে পৌঁছেছে মালয়েশিয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘স্মার্ট’ দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত কৃষকদের সুবিধার্থে ব্যর্থ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ কাম্পার ও কুয়ালা কাংসারে পৃথক ক্যাবল চুরির মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ এয়ার ইটাম সশস্ত্র সংঘর্ষ: পেনাং এবং সেলাঙ্গরে অভিযানের পর গ্রেপ্তার আরও ১০

চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগে উদ্বিগ্ন বেইজিং

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

বেইজিং, ২ জুলাই — ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার ভঙ্গুর বাণিজ্যসমঝোতা এখনো বজায় থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন একধরনের বাণিজ্য আলোচনা চীনের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই আলোচনা চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলা (সাপ্লাই চেইন) থেকে বাদ দেওয়ার পথ সুগম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এশিয়া ও ইউরোপের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করছেন, যেখানে ৯ জুলাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমার আগে নতুন বাণিজ্য চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। এই চুক্তিগুলোতে চীনা উপাদান সীমিত করার বিধান এবং উৎপত্তি ও মূল্য সংযোজন সংক্রান্ত কঠোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা বিশ্লেষকদের মতে চীনের আন্তর্জাতিক বাজারে সংযুক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।

ভারত এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় পণ্যের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ মূল্য ভারতীয়ভাবে সংযোজিত হলে সেটিকে “মেইড ইন ইন্ডিয়া” হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বাণিজ্য সুবিধা দেওয়া হবে। তবে ভারত এই সীমা কমিয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশে আনতে চাইছে।

ভিয়েতনামও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে। দেশটিকে একটি স্তরভিত্তিক শুল্ক কাঠামো গ্রহণ করতে বলা হয়েছে, যেখানে যেসব পণ্যে চীনা উপাদান বেশি থাকবে, সেগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হবে। এমন পণ্যের উপর ২০ শতাংশ বা তার বেশি শুল্ক বসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এই কৌশল মূলত চীনের কথিত “অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার” জবাবে গৃহীত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট গড়ে তুলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। বাইডেন প্রশাসন কঠোর বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মিত্রদের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

চীনা কর্তৃপক্ষ এখনো এই সর্বশেষ আলোচনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে পূর্বে এ ধরনের প্রচেষ্টাকে তারা “সংরক্ষণবাদী” (প্রটেকশনিস্ট) বলে আখ্যা দিয়েছিল এবং সতর্ক করেছিল যে, চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন থেকে বাদ দিলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব প্রস্তাবিত চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন ডেকে আনবে, বিশেষত ইলেকট্রনিক্স, বস্ত্র ও অন্যান্য উৎপাদন খাতে যেখানে চীনা উপাদানের আধিপত্য রয়েছে।

চলমান এই আলোচনা কীভাবে শেষ হয়, তার ওপর নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »