চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান বাহিনীর কয়েকটি পরিবহন বিমান ও সেনা সদস্য অবস্থান করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ নাকি দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস?

তবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এটি কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের যৌথ মহড়া “অপারেশন প্যাসিফিক এঞ্জেল ২৫-৩” চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাত দিনব্যাপী এ মহড়া ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মহড়ায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান, একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার এবং মার্কিন প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সের দুটি সি-১৩০জে বিমান। মহড়ায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দেড়শ’ সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ জন সদস্য। এতে উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ, সারভাইভাল এক্সারসাইজ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে মার্কিন সেনারা চট্টগ্রামের একটি হোটেলে নিবন্ধন ছাড়া অবস্থান করছে—এমন অভিযোগও ছড়িয়ে পড়ে। তবে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন অতিথিদের নিয়মিত প্রক্রিয়াতেই (পাসপোর্ট, ভিসা কপি জমা দিয়ে) হোটেলে উঠানো হয়েছে।

ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসও জানিয়েছে, এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা প্রস্তুতি, বিমান নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, শ্রীলঙ্কাসহ আঞ্চলিক অংশীদার দেশগুলোর সদস্যরা মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের যৌথ মহড়া নতুন নয়। এর আগেও নৌ, সেনা ও বিমান বাহিনীর যৌথ অনুশীলন হয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে তথ্যের বিকৃতি ও গুজবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
চট্টগ্রামে মার্কিন বিমান বাহিনীর উপস্থিতি কোনো অস্বাভাবিক সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে চলমান নিয়মিত যৌথ মহড়া।