জেরুজালেম, ১৩ সেপ্টেম্বর(পিবিএন সংবাদ ): ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে গাজা সিটির ওপর তীব্র হামলা শুরু হওয়ার পর সাড়ে দুই লাখেরও বেশি মানুষ শহর ছেড়ে চলে গেছেন।
আইডিএফ-এর (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) আরবি ভাষার মুখপাত্র কর্নেল আভিচাই আদ্রায়ী শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বলেন, “নিরাপত্তার জন্য গাজা সিটির এক চতুর্থাংশের বেশি বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।”
এমন ঘোষণা আসে এক রাতের বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার পর। নিহতদের মধ্যে ১২ জন শিশু রয়েছে বলে গাজার শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, শেখ রাদওয়ান এলাকায় এক বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের ১০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে এক মা ও তার তিন সন্তানও ছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সাম্প্রতিক দিনে হামাসের ওপর চাপ বাড়াতে গাজা সিটিতে একের পর এক বহুতল ভবন ধ্বংস করছে। সেনারা দাবি করছে, এসব ভবন নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। পাশাপাশি, বেসামরিক মানুষদের দক্ষিণ দিকে চলে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাকে তারা ‘মানবিক অঞ্চল’ বলছে।
তবে গাজা সিটিতে এখনো লক্ষাধিক মানুষ আটকে আছেন। অনেক পরিবার পরিবহন খরচ বা আশ্রয়ের অভাবে যেতে পারছে না। কেউ কেউ বহুবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর আর স্থান পরিবর্তনে আগ্রহী নন, কারণ তাদের বিশ্বাস, গাজায় কোথাও নিরাপদ নয়।
জাতিসংঘের হিসাবে, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ শহর ছেড়েছেন, যা ইসরায়েলের দেওয়া সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। সহায়তাকারী সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, দক্ষিণ গাজা ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত জনাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, আশ্রয়ের জন্য ৮৬ হাজারের বেশি তাঁবু ও সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
শুক্রবার রাতের এই হামলা আসে কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের আক্রমণের কয়েক দিন পর। এতে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে, গাজায় এখনো আটক রাখা হয়েছে ৪৮ জনকে, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিম্মিদের পরিবার ইসরায়েলকে অভিযানে বিরতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ তারা আশঙ্কা করছে অভিযানের ফলে তাদের প্রিয়জনদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।