মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যে ধানচাষীদের অতিরিক্ত যৌগিক সার বা “বাজা ৩” বিতরণে বিলম্বের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে মালয়েশিয়ান অ্যান্টি-কারাপশন কমিশন (এমএসিসি)। সরকারি নথিপত্রে অনিয়ম, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং যেকোনো সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মুদা কৃষি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা ‘মাদা’র আওতাধীন প্রায় এক লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সময়মতো সার পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ২৬ আগস্ট অভিযোগ দায়ের করে স্থানীয় কৃষক সংগঠন ‘পেসাওয়াহ’। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন সংস্থা এমএসিসি। জানা গেছে, অভিযুক্ত সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটিকে দেশটির কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সরাসরি নিয়োগ দিয়েছিল।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পেসাওয়াহর সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং ঘটনা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।
এর আগে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সার সরবরাহে অনিয়ম ও বিলম্বের বিষয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ প্রকাশ করে এর মূল কারণ অনুসন্ধানে এমএসিসি-কে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এমএসিসির প্রধান কমিশনার আবদ হালিম আমান জানিয়েছেন, এমএসিসি আইন ২০০৯-এর ১৮ ধারা অনুযায়ী এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। একই সাথে কৃষি মন্ত্রণালয় ও ‘মাদা’-র সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এমএসিসির এই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সার বিতরণের দীর্ঘসূত্রতার পেছনের আসল কারণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত দায়ীদের নাম উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।