কুয়ালালামপুর, ১৪ অক্টোবর: স্থানীয় এক অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় আয়োজকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা মালয়েশিয়ার জাতীয় নীতির পরিপন্থী।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংগঠনটির (Pertubuhan Anak Muda Bangkit Malaysia) পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক না কেন, ঘটনাটি অগ্রহণযোগ্য এবং অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
“সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে— কেউ হিব্রু ভাষায় লেখা ব্যবহার করছে, কেউ আবার ইসরায়েলি পতাকা নাড়িয়ে সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করছে। এসবই দেশের সামগ্রিক নীতির বিরোধী, যা রাজনৈতিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে,” বলেন আনোয়ার।
“উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, কাজটি ভুলই ছিল। আমি একমত যে পুলিশকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে,” তিনি যোগ করেন।
ঘটনাটি ঘটে ‘৫০০ পেলায়ারান সলিডারিটি কেলান্তান’ নামের এক গাজা সংহতি কর্মসূচিতে, যেখানে ইসরায়েলি পতাকা ব্যবহার করা হয় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (GSF) স্বেচ্ছাসেবকদের অভিজ্ঞতার পুনঃঅভিনয় হিসেবে। আয়োজক সংগঠনটি পরে ক্ষমা চেয়ে জানায়, পতাকাটি কেবল একটি নাট্যিক প্রতীক বা “গিমিক” হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ খাইরুল হাফিজ হাসান বলেন, তিনি পুলিশের যেকোনো তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
এর আগে মালাকায় আরেকটি ঘটনায় এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী তার গাড়িতে হিব্রু ভাষায় লেখা একটি স্টিকার রাখায় সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি ব্যাখ্যা দেন, ১৩ বছর আগে সেলাঙ্গরের এক দোকান থেকে “ইসরায়েল বেতাইনু” (অর্থ: “ইসরায়েল আমাদের ঘর”) লেখা স্টিকারটি কিনে নিয়ে “ইসরায়েল” শব্দটি পরিবর্তন করে “মালিজিয়া” করে দেন, যার মানে দাঁড়ায় “মালিজিয়া বেতাইনু” অর্থাৎ “মালয়েশিয়া আমাদের ঘর।”
তবু ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে দণ্ডবিধির ৫০৫(বি) ধারায় (জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি) এবং ১৯৯৮ সালের যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া আইনের ২৩৩ ধারায় (নেটওয়ার্কের অপব্যবহার) অভিযোগে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, এসব কর্মকাণ্ড ইচ্ছাকৃত হোক বা না হোক, তা জাতীয় সংবেদনশীলতা ও বৈদেশিক নীতির পরিপন্থী।
“মালয়েশিয়ার মাটিতে ইসরায়েলি পতাকা ওড়ানো এক ধরনের দেশদ্রোহী কাজের সমান,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।
“যে কারণই দেখানো হোক না কেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পুলিশি তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।