জেরুজালেম, ২০ জুলাই — ইসরায়েল দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের (OCHA) প্রধান জনাথন হুইটলের ভিসা নবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এটি জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞা এবং দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র ফারহান হাক জানান, হুইটলকে আর ফিলিস্তিনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
OCHA-র মুখপাত্র ইরি কানেকো বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, আমাদের বর্তমান প্রধান জনাথন হুইটলের ভিসা আগস্টের পর আর নবায়ন করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময় এলো, যখন আমরা একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্য সংগ্রহের সময় হত্যার ঘটনা তুলে ধরেছিলাম।”
কানেকো বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরা OCHA-র দায়িত্বের অংশ। “আমাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা নতুন নয়, তবে এখন আমাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে,” যোগ করেন তিনি।
শুধু জনাথন হুইটল নয়, জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি ইসরায়েলি ভিসা পাননি। UNRWA-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি গত জুন মাস থেকে ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি পাননি। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর এবং UN Women-এর স্থানীয় প্রধানরাও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই এমন প্রতিশোধমূলক আচরণ করছে ইসরায়েল।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, “জাতিসংঘ কর্মকর্তারা যখনই মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরেন, তখনই তাদের নাগালের সুযোগ সংকুচিত করা হয়। গাজায় এখন আমাদের মানবিক ও প্রচারমূলক কাজের মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব চলছে।”
গাজায় যুদ্ধ এবং অবরোধের কারণে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ। অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৫৮,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল গাজায় অনাহারকে একটি ‘যুদ্ধাস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
OCHA গাজা এবং পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা, জাতিসংঘ বলছে, এটি সহায়তা কার্যক্রমকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়ছে।
“অ্যাক্সেস না থাকলে সহায়তা পৌঁছায় না, এবং পর্যবেক্ষণ না থাকলে জবাবদিহিতা হয় না,” বলেন টম ফ্লেচার। “এটি এখন শুধুই রাজনৈতিক বিষয় নয়— এটি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।”