জেনেভা, ২১ জুন – ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জেনেভায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং ইউরোপীয় তিন দেশ জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান তার বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।
জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি, যা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন (JCPOA) নামে পরিচিত।
ইসরায়েলের আগ্রাসন চললে আলোচনা নয়: ইরান
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আরাগচি। তিনি বলেন:
“যতদিন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসন বন্ধ না করবে, ততদিন আমরা কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা করব না।”
তিনি আরও বলেন, ইরান ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার প্রয়োগ করেই যাবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি, বলেন:
“ইসরায়েলের ভয়াবহ আগ্রাসনের নিন্দা না করে বিশ্ব আজ অস্বস্তিকর নীরবতা পালন করছে।”
আরাগচি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতেও সংলাপ অব্যাহত রাখার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
জাতিসংঘে আরাগচির বক্তৃতা: বিশ্বকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে
এর আগে, আরাগচি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন:
“বিশ্ব, প্রতিটি দেশ ও জাতিসংঘের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে—আক্রমণকারীকে থামাতে হবে, দায়মুক্তি শেষ করতে হবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি বলেন, ইরান তার ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবরকম শক্তি প্রয়োগ করবে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবুও আলোচনা চলবে
এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ইউরোপীয় তিন দেশের আহ্বানে, এমন এক সময়ে যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত ব্যাপকভাবে বাড়ছে এবং JCPOA চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
তবে বৈঠক শেষে সব পক্ষই পরবর্তী আলোচনার জন্য প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। যদিও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত না হলে অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
“আমার জীবনের বড় অংশ সংলাপ ও কূটনীতিকে উৎসর্গ করেছি, কিন্তু আমি একজন যোদ্ধাও—আমি জানি কীভাবে মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে হয়,” বলেই শেষ করেন আরাগচি।