ইন্দোনেশিয়ার মধ্যাঞ্চলের কাছে শনিবার সকালে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কম্পনের পর দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ এবং ৬ দশমিক ১ মাত্রার তিনটি পরাকম্পন অনুভূত হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে অগভীর সমুদ্রের তলদেশে। সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি বিবেচনায় বাসিন্দাদের সৈকত ও নদীর তীর থেকে সরে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা।
তবে তিমুর সাগরের ওপারে থাকা অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সুনামির হুমকি নেই।
ইউএসজিএসের প্রাথমিক মূল্যায়নে ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে হতাহত ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির পেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ মানুষ শক্তিশালী থেকে অত্যন্ত তীব্র কম্পনের মধ্যে পড়েছেন। এতে দুর্বল স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং তুলনামূলকভাবে শক্ত ভবনে সামান্য থেকে মাঝারি ক্ষতি হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইন্দোনেশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ভূমিকম্পের ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। জাপান থেকে ইন্দোনেশিয়া হয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই এলাকায় নিয়মিত ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। ওই দুর্যোগে ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় দেশগুলোতে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা।
এ ছাড়া ২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বরে সুলাওয়েসি দ্বীপে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আঘাত হানা সুনামিতেও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ২০২২ সালের নভেম্বরে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর এলাকায় ৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পেও বহু মানুষ নিহত হন।