তেহরান : ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের চলমান সামরিক অভিযানের ১০ম ধাপ শুরু করেছে। “অপারেশন ট্রু প্রমিস থ্রি” নামের এই অভিযানের সর্বশেষ ধাপে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে একযোগে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন ধাপে ইসরায়েলের দখলকৃত ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ চালানো হয়। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর ঘাঁটিগুলো, যেখান থেকে ইরানের দিকে যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণ করা হয়ে থাকে।
“ইয়া আলি ইবনে আবি তালিব” কোডনামে পরিচালিত এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল গত শুক্রবার রাত থেকে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং নিরীহ নারী-শিশুসহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও গুপ্তহত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এই প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা চালানো হচ্ছে।
এর আগে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি করেছে ইরান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সোমবার ইসরায়েল সরকার ইরানি হামলার সরাসরি সম্প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
মঙ্গলবার ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ২৮ ধরণের শত্রু বিমান শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে। এদের মধ্যে একটি হেরমেস গোয়েন্দা ড্রোনকেও গুলি করে ধ্বংস করা হয়, যা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর উপর গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছিল।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই অপারেশনের ধাপে ধাপে আরও প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চলবে যতক্ষণ না “ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধের বার্তা” পৌঁছে দেওয়া যায়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো এই সর্বশেষ হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।