ক্লাং: মালয়েশিয়ায় অবৈধ ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১১০টি স্থানে হানা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় প্রায় ৫৫.২ মিলিয়ন রিঙ্গিত মূল্যের ই-বর্জ্য ও স্ক্র্যাপ জব্দ করা হয়েছে।
“অপস হ্যাজার্ড ৩.০” নামে পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত চক্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বুকিত আমান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিভাগের (জেনারেল অপারেশন ফোর্স) উপপরিচালক ডেপুটি কমিশনার দাতুক মোহামাদ সুজরিন মোহামাদ রোধি জানান, অভিযানে হানা দেওয়া ১১০টি স্থানের মধ্যে ৮৭টি ই-বর্জ্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত, যার মধ্যে ১৪টি ছিল অবৈধ কারখানা। আরও ৭টি স্থানে তদন্ত চলছে।
সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ২৯৩টি যানবাহন ও সরঞ্জাম, যার মধ্যে গাড়ি, ভ্যান, লরি এবং ড্রোন অন্তর্ভুক্ত ছিল, ব্যবহার করা হয়।
অভিযানে মোট ৭২৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ১৫৪ জন মালয়েশিয়ান এবং ৫৭৫ জন বিদেশি। এদের মধ্যে ২০৫ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয় নাগরিক, বিদেশি এবং অবৈধ অভিবাসী রয়েছে।
জব্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩১৬,২৭৮.৫ কেজি ই-বর্জ্য, ৩৮৮,২৩০ কেজি স্ক্র্যাপ ধাতু, এবং অতিরিক্ত ৯,৩৫০ কেজি অন্যান্য সামগ্রী। মোট জব্দের মূল্য প্রায় ৫৫.২২ মিলিয়ন রিঙ্গিত।
নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ৩৪২টি জরিমানা নোটিশ (কম্পাউন্ড) জারি করেছে, যার মোট পরিমাণ ৮২,৪৫০ রিঙ্গিত।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসব অবৈধ কারখানায় প্রক্রিয়াজাত ই-বর্জ্য থেকে অ্যালুমিনিয়াম, টিন, তামা ও স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতু সংগ্রহ করে তা চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযান পরিবেশ দূষণ রোধ এবং দেশে অবৈধ ই-বর্জ্য প্রবেশ ও প্রক্রিয়াকরণ বন্ধে চলমান প্রচেষ্টার অংশ।
এই অভিযানে পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর, অভিবাসন বিভাগ, ইনল্যান্ড রেভিনিউ বোর্ড এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থার ১,৬১১ জন সদস্য অংশ নেন।
অভিযানের সার্বিক ফলাফল নিয়ে আরও বিস্তারিত জানাতে আগামী শুক্রবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (IGP) একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।