বেইজিং: কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত দ্রুত প্রশমনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জন্য সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। সোমবার এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এ কথা বলেন।
গুয়ো জানান, গত ৭ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় শুরু হওয়া কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ড সীমান্ত সংঘাত নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর মাত্র দুই মাস আগেই দুই দেশ একটি যৌথ শান্তি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছিল।
তিনি বলেন, “কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড—উভয়ই চীনের বন্ধু ও প্রতিবেশী দেশ। সীমান্ত সংঘাতে হতাহতের ঘটনায় চীন গভীরভাবে মর্মাহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।”
গুয়ো জোর দিয়ে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, সংঘাত বন্ধ করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকেই বেইজিং বিভিন্ন পর্যায়ে ও চ্যানেলে উভয় পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং শান্তি আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে সক্রিয় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, চীন কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সরাসরি সংলাপ ও আলোচনাকে সমর্থন করে, পাশাপাশি আসিয়ান—বিশেষ করে মালয়েশিয়ার—শান্তি আলোচনার উদ্যোগকেও স্বাগত জানায়। আসিয়ান কাঠামোর মধ্যেই পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার ওপর জোর দেয় চীন।
“চীন শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এবং সংঘাতের অবসান ঘটাতে গঠনমূলক ভূমিকা রেখে যাবে,” বলেন গুয়ো।
এদিকে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, থাই সামরিক বাহিনী দেশটির সার্বভৌম ভূখণ্ডের ভেতরে হামলা জোরদার করেছে।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, থাইল্যান্ডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিয়েম রিয়াপ প্রদেশে একটি বাস্তুচ্যুত বেসামরিক শিবিরের কাছাকাছি এলাকায় সকাল ১০টার দিকে দুটি বোমা নিক্ষেপ করে। এছাড়া রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ার একাধিক এলাকায় থাই বাহিনী গোলাবর্ষণ চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টাচ সোখাক জানান, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘাতে অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার নারী এবং প্রায় ৯৬ হাজার শিশু রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলমান এই সীমান্ত সংঘাতের জন্য কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংঘাত প্রশমনের আহ্বান জোরালো হচ্ছে।