দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সুদানের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় এই চুক্তির প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আরএসএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘কোয়াড’ মধ্যস্থতাকারী গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রস্তুত। গোষ্ঠীটির দাবি, এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হলো যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক পরিণতি মোকাবিলা করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তবে এখনো পর্যন্ত সুদানের সরকারি সেনাবাহিনী (এসএএফ) যুদ্ধবিরতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তিন মাসের জন্য যুদ্ধবিরতি
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি তিন মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। পরবর্তী সময়ে এটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করতে পারে, যার মধ্যে একটি নতুন বেসামরিক সরকার গঠনের বিষয়ও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বোলুস বলেন, উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি পাওয়া যায়নি।
তবে সুদানের সেনাবাহিনী বারবার জানিয়েছে, তারা এখনই লড়াই থামাতে রাজি নয়। সেনাপক্ষের দাবি, আরএসএফ সদস্যদের পুনরায় সমাজে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। তারা আরও বলেছে, যুদ্ধবিরতির আগে আরএসএফকে দখলকৃত শহরগুলো থেকে সরে যেতে হবে।
একইদিন এক টেলিভিশন ভাষণে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান বলেন, আমরা শত্রুকে পরাজিত করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। নিহত ও নির্যাতিতদের প্রতিশোধ নেব।
অন্যদিকে, আরএসএফের বিরুদ্ধে উত্তর দারফুরের এল-ফাশের শহর দখলের পর গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চল থেকে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, শহর দখলের সময় একটি শিশু হাসপাতালে অন্তত ৪৬০ রোগী ও চিকিৎসক নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে আরএসএফ দারফুর ও দক্ষিণ সুদানের কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে সরকারি সেনাবাহিনী উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানী খার্তুমে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে শুরু হয় এই গৃহযুদ্ধ। তখন থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সুদানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ তৈরি হবে।