রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১,৩৪১তম দিনে ফের তীব্র আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক শহর। রুশ বাহিনীর রাতভর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৭ জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর চালানো ড্রোন হামলায় কিয়েভে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া (Zaporizhia) অঞ্চলে রুশ গোলাবর্ষণে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। একইভাবে খারকিভ (Kharkiv) অঞ্চলেও এক বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক (Donetsk) এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা হামলায় দুই জন নিহত হয়েছেন বলে রুশ গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, রাশিয়া সফলভাবে নতুন ধরনের নিউক্লিয়ারচালিত “বুরেভেস্টনিক” (Burevestnik) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রকে “দীর্ঘ পাল্লার ও উন্নতমানের” বলে বর্ণনা করেছে মস্কো। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার আশঙ্কায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, একদিনে ২৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে
এই সিদ্ধান্তগুলো ইউরোপে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শান্তির কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।
প্রতিদিনের হামলায় বেসামরিক প্রাণহানি বাড়ছে, আর উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।