দীর্ঘ সংঘাতের পর অবশেষে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম জুমায় এক অনন্য দৃশ্য দেখা গেল গাজায়। ভয় ও রক্তক্ষয়ের অধ্যায় পেরিয়ে বহু ফিলিস্তিনি আজ খোলা আকাশের নিচে, কিংবা বোমা থেকে বেঁচে যাওয়া মসজিদগুলোতে সমবেত হয়ে আদায় করেছেন জুমার নামাজ।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে কাতার, মিশর, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শুক্রবার বিকেলে কার্যকর হয়। এই যুদ্ধবিরতি গাজার বিধ্বস্ত মানুষের জীবনে এনেছে কিছুটা স্বস্তি ও আশার আলো।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ সংঘাতে বহু পরিবার হারিয়েছে আপনজন, ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ি। কিন্তু যুদ্ধবিরতির প্রথম শুক্রবারে ফিলিস্তিনিরা আবারও একত্রিত হয়েছেন—আল্লাহর কাছে শান্তি, স্থায়ী নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠনের প্রার্থনা নিয়ে।
শুক্রবার দুপুরে কার্যকর হওয়া এই চুক্তির প্রথম ধাপে জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা চুক্তি অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং এরপরই গাজার কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন শুরু করে।
যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গাজার দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ উত্তর গাজার দিকে নিজেদের ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করেছেন। কেউ ফিরছেন অবশিষ্ট স্মৃতি খুঁজতে, কেউ বা শুধু নিজের ভূমিতে ফিরে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষায়।
ধ্বংস, বেদনা আর অশ্রুর ভেতরেও গাজার মানুষ আজ একটু স্বস্তি পেয়েছে—শান্তির এক ক্ষণিক ছোঁয়া।