ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে নির্ভীক সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার এই ঘোষণা দেয়।অসলো সময় শুক্রবার বিকেলে নোবেল ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান বারিট রাইস-আন্ডারসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“মারিয়া কোরিনা মাচাদো এমন এক সময়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য লড়াই করেছেন, যখন ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বিরোধিতা জীবনহানির সমান ঝুঁকি ছিল।”
নোবেল কমিটি আরও জানায়, তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশেও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।এই বছর শান্তি পুরস্কারের আর্থিক পরিমাণ ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার)।
পুরস্কারটি অসলো সিটি হলে ১০ ডিসেম্বর, বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলার অন্যতম প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় জোট ‘ভেনেজুয়েলা ভিভে’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র।সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের কড়া সমালোচক এবং ২০১৪ সালের গণতন্ত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা।দীর্ঘদিন গৃহবন্দী ও রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তিনি আন্তর্জাতিক মহলে ভেনেজুয়েলার মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।জাতিসংঘ, ইউরোপীয় সংসদ এবং মার্কিন কংগ্রেসে তাঁর বক্তব্যগুলো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বাস্তবতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
তার বিজয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া-মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেন, “মাচাদোর সাহস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্র রক্ষা শুধু ভোট নয়—এটি এক অনন্ত সংগ্রাম।”ইউরোপীয় ইউনিয়নও এক বিবৃতিতে জানায়, “এই পুরস্কার লাতিন আমেরিকায় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের জন্য আশার প্রতীক।”
ভেনেজুয়েলা সরকার অবশ্য পুরস্কারটিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে নোবেল কমিটি আবারও তাদের ঐতিহ্য অনুসরণ করেছে—যেখানে ব্যক্তি নয়, বরং আন্দোলন ও সাহসী অবস্থানকেই সম্মান জানানো হয়।
মাচাদোর স্বীকৃতি লাতিন আমেরিকার গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নতুন গতি দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিকার্ডো মেনডোজা বলেন,
“এই নোবেল ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য নৈতিক বিজয়—এটি কেবল মাচাদোর নয়, বরং সেই নারীদের, যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের দাবি জানাচ্ছেন।”