কুয়ালালামপুর, ৭ অক্টোবর: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। ইসরায়েলি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলা (GSF) মানবিক অভিযানে অংশ নেওয়া ২৩ জন মালয়েশিয়ান কর্মী মঙ্গলবার রাতে স্বদেশে ফিরেছেন।
রাত প্রায় ১০টার দিকে তারা এমিরেটস ফ্লাইট EK342-এ করে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA)-তে পৌঁছান। এর আগে তারা তুরস্কের ইস্তানবুল থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং দুবাইয়ে স্বল্প বিরতির পর দেশে ফেরেন।
বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর। শত শত মানুষ, পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গণমাধ্যমকর্মীরা “ফ্রি প্যালেস্টাইন!” স্লোগানে মুখরিত করে তাদের স্বাগত জানান।
সবচেয়ে আগে আগমন হলেন পরিচিত ইসলামিক বক্তা উস্তাজ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ (উস্তাজ মাদ কেচিক)। পরে বাকি সদস্যরাও আগমন করেন, যাদের অভ্যর্থনায় চোখে পড়ে আবেগ ও গর্বের মিশেল।
তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক ফাহমি ফাদজিল, শিক্ষামন্ত্রী ফাধলিনা সিদেক, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উপমন্ত্রী (ধর্মবিষয়ক) ড. জুলকিফলি হাসান, এবং ফেডারেল টেরিটরি মুফতি দাতুক আহমাদ ফাওয়াজ ফাদজিল।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম-এর নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সাফল্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
“তাদের সাহস, ত্যাগ এবং মানবিকতার প্রতিশ্রুতি মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের প্রতি অকৃত্রিম সংহতির প্রতীক,” বলেন তিনি।
“আমরা প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা অক্লান্ত পরিশ্রমে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেছেন।”
সুমুদ নুসান্তারা কমান্ড সেন্টার (SNCC)-এর মহাপরিচালক দাতুক ড. সানি আরাবি আবদুল আলিম আরাবি বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়।
“এই লড়াই শেষ হয়নি যতদিন না ফিলিস্তিন স্বাধীন হচ্ছে, আমাদের মিশন চলবে,” তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, ২ অক্টোবর ইসরায়েলি নৌবাহিনী ভূমধ্যসাগরের “রেড জোনে” গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে আটক করে।
ফ্লোটিলায় ছিল ৪২টি নৌযান, ৪৭টি দেশের ৪৫০ জন মানবিক কর্মী এবং প্রচুর ত্রাণসামগ্রী।
তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়, পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর মুক্তি দিয়ে রামন বিমানবন্দর থেকে ইস্তানবুলে পাঠানো হয়।
মালয়েশিয়ান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী হেলিজা হেলমি, জিজি কিরানা, প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সার আরডেল আরিয়ানা, ব্লগার ফারাহ লি, অভিনেতা দানিিশ নাজরান, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব PU রাহমাত, এবং আরও অনেকে।
দেশে পৌঁছার পর তাদের বিশ্রামের জন্য হোটেলে নেওয়া হয় এবং শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।
এই প্রত্যাবর্তনকে মালয়েশিয়া জুড়ে “মানবতা, সাহস ও নৈতিকতার জয়” হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনের পাশে থাকার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য নাগরিকরা তাদের “আসল বীর” হিসেবে অভিহিত করছেন।
— পিবিএন নিউজ |