জাতিসংঘ, ২৭ সেপ্টেম্বর : গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস শুক্রবার সতর্ক করেছেন যে, গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তারা অবশিষ্ট মিত্রদেরও হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্র-ডানপন্থী এ নেতা বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তবে তা “হাজারো শিশুর মৃত্যুকে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দিতে পারে না।”
তিনি বলেন, “গ্রিস ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছে। তবে এটি আমাদের খোলাখুলি ও স্পষ্টভাবে কথা বলায় কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না। এ ধারা অব্যাহত থাকলে তা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের স্বার্থকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ক্ষয়ে যাবে।”
মিৎসোটাকিস সরাসরি ইসরায়েলি নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি আমার ইসরায়েলি বন্ধুদের বলি যদি তারা এই পথে অটল থাকে, তবে তারা অবশিষ্ট সব মিত্রকেও হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। এতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা ভেঙে পড়ছে।”
গ্রিস এখনো ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তির মতো ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো ইসরায়েলের নীতির প্রতি যে বিরক্তি প্রকাশ করছে, মিৎসোটাকিসের মন্তব্য তাতেই নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে শুক্রবার, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে এক তীব্র ভাষণে পশ্চিমা নেতাদের ইহুদিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসতে গিয়ে কিছু ইউরোপীয় আকাশপথ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিস ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে, বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে উভয় দেশের উত্তেজনার কারণে। তবে গ্রিসের সাধারণ জনগণের বড় একটি অংশ গাজার যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলকে তীব্র সমালোচনা করছে। সাবেক বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য গ্রিস সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মিৎসোটাকিসের এই সতর্কবার্তা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গাজার মানবিক সংকট তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল এমনকি তার ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গেও ক্রমশ দূরত্ব তৈরি করছে।