নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর : মিয়ানমারকে পাঁচ দফা ঐকমত্য (Five-Point Consensus) পুরোপুরি বাস্তবায়নে আসিয়ান তাদের চাপ অব্যাহত রাখবে এবং জাতীয় পুনর্মিলনের পথে ফেরাতে সব অংশীজনের মধ্যে সংলাপ সহজ করতে বিশেষ দূতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাবে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের “গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অব মেডিয়েশন” মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বদা এই প্রচেষ্টা বজায় রেখেছে।
“মিয়ানমারকে অবশ্যই পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হতে হবে। আসিয়ান সব অংশীজনের মধ্যে সংলাপ সহজ করতে বিশেষ দূতকে সহায়তা করতে প্রস্তুত,” বলেন মোহাম্মদ।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (NUG) কে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটে রয়েছে। একই বছরের এপ্রিলে আসিয়ান জরুরি সম্মেলন ডেকে পাঁচ দফা ঐকমত্য গ্রহণ করে। এতে সহিংসতা অবসান, সকল পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ হাসান কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সীমান্ত উত্তেজনার বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, আসিয়ান অর্থবহ সংলাপ চালিয়ে যাবে এবং দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন,
“২০২৫ সালে আসিয়ান চেয়ার হিসেবে আমাদের কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত উত্তেজনার সাড়া দিতে ও সমাধান করতে ডাকা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা আসিয়ান পর্যবেক্ষক দল মোতায়েনের লক্ষ্য নিয়েছি।”
৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধে জড়িয়ে আছে দুই দেশ। গত ২৪ জুলাই উভয় পক্ষের গুলিবিনিময়ের মাধ্যমে সংঘাত ফের জ্বলে ওঠে। তবে ২৮ জুলাই মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে পৌঁছানো চুক্তির মাধ্যমে তা শান্ত হয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব আঞ্চলিক সংকটে আসিয়ানের সক্রিয় ভূমিকা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সংলাপকে তাদের কূটনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিফলিত করে।