কুয়ালালামপুর, ২৪ সেপ্টেম্বর : মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো ১৪তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস চিফস কনফারেন্স (IPACC), ৪৯তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (IPAMS) এবং ১১তম সিনিয়র এনলিস্টেড লিডারস ফোরাম (SELF)। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৭টি দেশের সেনাপ্রধান, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মালয়েশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আদলি জাহারি, যিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাতুক সেরি খালেদ নরদিনের প্রতিনিধিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স জেনারেল তান শ্রী দাতো’ সেরি মোহাম্মদ আব রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল তান শ্রী দাতো’ শ্রী মুহাম্মদ হাফিজুদ্দাইন বিন জান্তান এবং যুক্তরাষ্ট্র আর্মি প্যাসিফিক কমান্ডিং জেনারেল রোনাল্ড ক্লার্ক।
বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওকারুজ্জামান এ সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

মূল বক্তব্যে জেনারেল হাফিজুদ্দাইন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে “বিশ্ব বাণিজ্য, উদ্ভাবন ও মানবিক সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু” আখ্যায়িত করে বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি এ অঞ্চলের সমুদ্রপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষায় স্থলবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য “Forging Synergy: Transforming Multinational Land Power Networks Through Open Fashion Contact”যা দেশগুলোর মধ্যে আস্থা, স্বচ্ছ সংলাপ ও যৌথ পদক্ষেপের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
“সিনার্জি গড়ে তোলা মানে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করা, যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি করা এবং এমন সাফল্য অর্জন করা যা কোনো একক দেশ একা অর্জন করতে পারে না,” বলেন জেনারেল হাফিজুদ্দাইন।
তিনি ভবিষ্যতের জন্য পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন: দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী হাইব্রিড যুদ্ধ, সাইবার হুমকি ও গ্রে-জোন পরিস্থিতি মোকাবিলা।প্রযুক্তি অভিযোজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, তবে সৈন্যদের বিকল্প নয় বরং সহায়ক হিসেবে। লজিস্টিকসের স্থায়িত্ব ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরবরাহ চেইন ও মজুত শক্তিশালী করা।
মানবকেন্দ্রিক রূপান্তর , নেতৃত্ব, প্রশিক্ষণ, মনোবল ও কল্যাণে বিনিয়োগ।
মানবিক সহায়তা ও জলবায়ু নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিয়ে সমাজে সেনাবাহিনীর ভূমিকা জোরদার করা।
জেনারেল হাফিজুদ্দাইন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা নীতি কূটনীতি ও প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও আধুনিকায়ন, জাতীয় ও আঞ্চলিক দায়িত্বের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে। তিনি উল্লেখ করেন, শান্তিরক্ষা মিশন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও আসিয়ান এবং এডিএমএম-প্লাস কাঠামোর অধীনে মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

“আমাদের সেনারা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বই আমাদের শক্তির মূলভিত্তি,” তিনি বলেন।
৪ দিনব্যাপী এ সম্মেলনে (২৩–২৬ সেপ্টেম্বর) ২৭টি দেশের ১৬২ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে: IPACC: ২৬ দেশের ২৬ প্রতিনিধি, যার মধ্যে ১৩ জন সেনাপ্রধান। IPAMS: ২০ দেশের ৮৬ কর্মকর্তা। SELF: ১৬ দেশের ৫০ জন সিনিয়র এনলিস্টেড লিডার।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে: মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, কানাডা, চিলি, ফিজি, ফ্রান্স, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, টোঙ্গা, যুক্তরাজ্য, ভানুয়াতু ও ভিয়েতনাম।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হলো কাউন্টার ইনসারজেন্সি ওয়ারফেয়ার (CIW) ফ্রেমওয়ার্ক অপারেশন ডেমনস্ট্রেশন, যা অনুষ্ঠিত হবে রাওয়াং-এর তামান ইকো রিম্বা কোমানওয়েলে। এতে মালয়েশিয়ান সেনাবাহিনী জঙ্গলে টিকে থাকার কৌশল, অপারেশন ও ট্যাকটিক্যাল মহড়া প্রদর্শন করবে।
এছাড়াও আয়োজিত হয়েছে একটি স্পাউস প্রোগ্রাম, যেখানে সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা সামরিক জীবনের মানসিক ও সামাজিক দৃঢ়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
এর আগে মালয়েশিয়া ২০২১ সালে প্যাসিফিক আর্মিস চিফস কনফারেন্স (PACC) এবং ২০১৬ সালে প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (PAMS) আয়োজন করেছিল। এবারের সম্মেলন দিয়ে মালয়েশিয়া তৃতীয়বারের মতো এমন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সম্মেলনের আয়োজন করলো।
সম্মেলন উদ্বোধনের সময় জেনারেল হাফিজুদ্দাইন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই সমাবেশ আঞ্চলিক সেনাবাহিনীর মধ্যে বিশ্বাস, সমন্বয় ও যৌথ পদক্ষেপকে আরও শক্তিশালী করবে, যা শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
@পিবিএন সংবাদ