কুয়ালালামপুর: জনগণের উদ্বেগ ও সমস্যাগুলো সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বর্তমান আনোয়ার ইব্রাহিমের মাদানি সরকারের বিরুদ্ধে ১২টি বিরোধী দল একত্রিত হয়ে জোট গঠন করেছে।
পার্টি প্রিবুমি বারসাতু মালয়েশিয়া (বেরসাতু)-এর সভাপতি তান শ্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন জানিয়েছেন, আপাতত এ জোটের নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে নাম চূড়ান্ত হবে।
এই জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো: পার্টি প্রিবুমি বারসাতু মালয়েশিয়া (বেরসাতু), পার্টি ইসলাম সে-মালয়েশিয়া (পাস), পার্টি গেরাকান রাকিয়াত মালয়েশিয়া (গেরাকান), পার্টি পেজুয়াং তানাহ আইর (পেজুয়াং), ইকাতান ডেমোক্রাতিক মালয়েশিয়া (মুদা), মালয়েশিয়া ইন্ডিয়ান পিপলস পার্টি (MIPP), পার্টি বুমিపুত্রা পেরকাসা মালয়েশিয়া (পুত্রা), পার্টি প্রগ্রেসিফ পেন্ডুডুক মালয়েশিয়া (PPP), বারিসান জেমাহ ইসলামিয়াহ সে-মালয়েশিয়া (বারজাসা), পার্টি সোসিয়ালিস মালয়েশিয়া (PSM), পার্টি কেমাজুয়ান মালয়েশিয়া (MAP) এবং পার্টি পেরিকাতান ইন্ডিয়া মুসলিম ন্যাশনাল (ইমান)।
এছাড়াও এখনো নিবন্ধিত না হওয়া একটি সংগঠন বেরসেপাকাত হাক রাকিয়াত মালয়েশিয়া (উরিমাই)-ও আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
মুহিউদ্দিন ইয়াসিন বলেন, এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সেক্টরভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করা হবে। এরপর সরকারকে যৌথভাবে সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ১৩তম মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (RMK১৩) নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অভিন্ন উদ্বেগ রয়েছে, কারণ এ পরিকল্পনায় জনগণের মূল সমস্যাগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
বেরসাতু সভাপতি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় এখন সবচেয়ে বড় চাপ। যদিও সরকারি হিসাবে মুদ্রাস্ফীতি কম, তবে তেল ভর্তুকি প্রত্যাহার বা পুনর্গঠন এবং সম্প্রতি প্রয়োগকৃত বিক্রয় ও সেবা কর (SST) বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। প্রায় ৬,০০০ পণ্যে কর আরোপ হওয়ায় জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
“ব্যবসায়ীরাও অভিযোগ করছেন যে তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে,” বলেন মুহিউদ্দিন।
তিনি যোগ করেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী টোল বাতিল বা পিটিপিটিএন ঋণ পরিশোধে সময়সীমা শিথিল করার মতো সংস্কার বাস্তবায়ন না করায় জনঅসন্তোষ আরও বেড়েছে।
আসন্ন নির্বাচনে এই জোটের যৌথ অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুহিউদ্দিন বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তবে অর্থনীতি, শিক্ষা, সামাজিক ও অন্যান্য বিষয়ে যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
“এখানে কোনো একক দলের স্বার্থ নয়, বরং বহু দলের অভিন্ন স্বার্থ ও জনস্বার্থের ভিত্তিতেই আমরা এগোব,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।