পুত্রজায়া: মিয়ানমারে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শরণার্থী সংকট সমাধানকে মালয়েশিয়ার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে, মালয়েশিয়া তা সমর্থন ও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তিন দিনের সরকারি সফর (১১–১৩ আগস্ট) উপলক্ষে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, শরণার্থী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো জরুরি। একইসঙ্গে মিয়ানমার সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার রাখতে হবে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার সফরে যাবেন, যার উদ্দেশ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা।
এদিন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শিক্ষা, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, হালাল শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে মোট ৮টি সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং নোট বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা — স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান ও বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
কূটনীতিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা — দাতো’ সেরি উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা — মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়াইবি দাতো’ সেরি মোহাম্মদ খালেদ বিন নোরদিন ও মো. তৌহিদ হোসেন।
এলএনজি ও জ্বালানি অবকাঠামো — মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী (দ্বিতীয়) ও ভারপ্রাপ্ত অর্থনীতি মন্ত্রী দাতুক সেরি আমির হামজা বিন আজিজান ও বাংলাদেশের উপদেষ্টা এম ফওজুল কাবির খান।
হালাল ইকোসিস্টেম — মালয়েশিয়ার উপমন্ত্রী (ধর্মবিষয়ক) ওয়াইবি সিনেটর ড. জুলকিফলি বিন হাসান ও চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বিডা।
ISIS মালয়েশিয়া–BIISS বাংলাদেশ সহযোগিতা — ড. মোহদ ফাইজ আবদুল্লাহ ও মো. শামীম আহসান।
MIMOS Services Sdn. Bhd.–BMCCI সহযোগিতা — মোহাম্মদ ফাউজি ইয়াহায়া ও সাব্বির আহমেদ খান।
NCCIM মালয়েশিয়া–FBCCI বাংলাদেশ সহযোগিতা — দাতো’ সেরি এন. গোপালাকৃষ্ণন ও মো. হাফিজুর রহমান।
চুক্তি বিনিময় শেষে দুই দেশের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এসব সমঝোতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তারা মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধতা ও স্বার্থসংক্রান্ত বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন।