মস্কো: মালয়েশিয়ার রাজা, মহামান্য সুলতান ইব্রাহিমের রাশিয়ায় আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত দাতুক চেওং লুন লাই।
আগামী ৫ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই সফর হবে মালয়েশিয়ার প্রধান রাষ্ট্রপ্রধানের রাশিয়ায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর, যা দুই দেশের মধ্যে ১৯৬৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিনিধিত্ব।
চেওং বলেন, “এই সফর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত ও সর্বমুখী সহযোগিতায় গভীর আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইয়াং দি-পারতুয়ান আগোং-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রকাশ।”
সফর শুরুর পর, ৬ আগস্ট মস্কোর গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্রাসাদে রাজাকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে এবং পরবর্তীতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন তিনি।
বৈঠকে উভয় দেশের নেতারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উচ্চ শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।
সুলতান ইব্রাহিম রুশ স্বয়ংচালিত প্রযুক্তি উন্নয়ন সংস্থা এবং Tochka Kipeniya প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন হাবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
৮ আগস্ট, রাজা তাতারস্তানের রাজধানী কাজানে যাবেন এবং সেখানকার প্রধান (Rais) রুস্তাম মিনিখানভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকে হালাল শিল্প, কৃষি প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে যৌথ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
সফরের অংশ হিসেবে, সুলতান ইব্রাহিম কাজান হেলিকপ্টার প্ল্যান্ট পরিদর্শন করবেন, যেখানে অসামরিক, সামরিক ও উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বর্তমানে রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার নবম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বৈশ্বিকভাবে ২৮তম, যেখানে ২০২৪ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল RM11.46 বিলিয়ন (মার্কিন $2.48 বিলিয়ন)। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে RM4.13 বিলিয়ন (মার্কিন $945.7 মিলিয়ন)।
এই রাষ্ট্রীয় সফর মালয়েশিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করবে এবং নতুন খাতে সহযোগিতার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।