কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মানবপাচার বিরোধী এক অভিযানে ১৪ জন বিদেশি নারীকে পতিতাবৃত্তি চক্র থেকে উদ্ধার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM)। উদ্ধার হওয়া এক নারীর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর তাকেই প্রেমিক বিক্রি করে দিয়েছিল এই চক্রের কাছে।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে জালান পেটালিং এলাকায় একটি পতিতালয়ে পরিচালিত ‘অপ পান্তাস (ATIP)’ অভিযানে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। অভিযানটি গোপন তথ্য ও নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইন্ডিকেটরস (NGHTI 2.0) অনুসরণ করা হয়।
কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সৌফি ওয়ান ইউসুফ জানান, উদ্ধার হওয়া নারীদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি, ৩ জন ভারতীয় ও ১ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে।
“একজন ভুক্তভোগী স্বীকার করেছেন যে, প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর সে নিজ প্রেমিকের দ্বারাই এই চক্রের কাছে বিক্রি হয়। পরে তাকে যৌনকাজে বাধ্য করা হয়,” বলেন ওয়ান মোহাম্মদ সৌফি।
তিনি আরও জানান, উক্ত পতিতালয়টি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকত এবং সরাসরি গ্রাহকদের সেবা দিত। অভিযানের সময় কয়েকজন গ্রাহক পালানোর চেষ্টা করে।
অভিযানে তিনজন মালয়েশিয়ান পুরুষকে আটক করা হয়েছে, যারা চক্রটির তত্ত্বাবধায়ক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিরোধী আইন (ATIPSOM) এর ১২ ধারা অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
এছাড়াও, ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জন পুরুষ গ্রাহককে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ জন নেপালের, ২ জন বাংলাদেশের এবং ৫ জন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
“প্রত্যেক গ্রাহক প্রায় ৬০ রিঙ্গিত পরিশোধ করে পতিতাসেবা গ্রহণ করতেন,” যোগ করেন ওয়ান মোহাম্মদ সৌফি।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, মানবপাচার ও যৌনশোষণের বিরুদ্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।