শিরোনাম :
অনলাইন প্রতারণা রোধে বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্ত শিগগিরই মন্ত্রিসভায় : ফাহমি ফাদজিল মেডিকেল ডিভাইস অনুমোদনে আসিয়ানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ, সমন্বয় করবে মালয়েশিয়া ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় ‘অপারেশন মেলানোপ্লাস’-এর আওতায় মাদকের বড় চক্রকে আটক করেছে পুলিশ ইন্দোনেশিয়ার মাদক চোরাচালান মামলায় দ্বিতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ নেপালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিবে উইস্মা পুত্রা: নাদমা সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের

“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” — “হে আল্লাহ! আমি হাজির” এই হৃদয়গ্রাহী ধ্বনিতে মুখর আরাফাত প্রান্তর

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫

আরাফাত, ৫ জুন ২০২৫ (বৃহস্পতিবার):
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসলিম আজ আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন, যা বার্ষিক হজের সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” — “হে আল্লাহ! আমি হাজির” এই হৃদয়গ্রাহী ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে বিশাল আরাফাত প্রান্তর।

আরাফাত পর্বত, যা জাবাল আর-রাহমা (দয়া পর্বত) নামে পরিচিত, এখানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন প্রায় ১৪০০ বছর আগে। হজের অন্যতম প্রধান রোকন হলো এই আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। ইসলামে এই দিনটি ইয়াওমে আরাফা নামে পরিচিত এবং এটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় দিন।

হাজীরা সাদা রঙের ইহরাম পরে — যা পবিত্রতা ও সমতার প্রতীক — সারাদিন প্রার্থনা, কান্নাকাটি, দোয়া ও ইবাদতে নিমগ্ন থাকেন। অনেকে দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই সমবেত প্রার্থনার দৃশ্য হজযাত্রার চূড়ান্ত আত্মিক অভিজ্ঞতা বলে বিবেচিত।

এবার হজের খুতবা প্রদান করেন মক্কাস্থ মসজিদুল হারামের খতিব ও ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুতবাটি ২০টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়, যার মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, উর্দু ও তুর্কিও রয়েছে। বাংলা অনুবাদ করেন চারজন বাংলাদেশি ইসলামি শিক্ষাবিদ — ড. খলীলুর রহমান, আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান এবং নাজমুস সাকিব — যারা মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

খুতবার পর হাজীরা আরাফাত ময়দানে একত্রে জোহর ও আসরের নামাজ সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন। এরপর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই তারা রওনা দেন মুজদালিফার উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেন এবং খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন। এখান থেকেই মিনার প্রতীকী শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করেন হাজীরা।

আরাফার দিন: রহমত ও গুনাহ মাফের দিন

ইসলামে আরাফার দিনটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় দিন হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে এসেছে, এই দিনে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এই দিনেই কুরআনের সর্বশেষ আয়াত (সূরা মায়েদা ৫:৩) নাজিল হয়, যেখানে ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়:

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” — (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৩)

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন:
“আরাফার দিনের চেয়ে আল্লাহ তাআলা বেশি সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এমন আর কোনো দিন নেই।” — (সহিহ মুসলিম)

পরবর্তী করণীয়

মুজদালিফায় রাত যাপনের পর হাজীরা ফিরে যাবেন মিনায়, যেখানে তারা জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন — যা শয়তান ও পাপের প্রতীকী বর্জনের নির্দেশনা বহন করে। এরপর কোরবানি, মাথা মুন্ডন/চুল ছাঁটা এবং কাবা শরিফে তাওয়াফে জিয়ারত করবেন। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে প্রতিদিন তিনটি জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবেন। সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »