চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার ক্লাস আগামী বৃহস্পতিবার (২ মে) পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
তবে যে’সব স্কুলে এসির ব্যবস্থা আছে, পরীক্ষা চলমান আছে, ও লেভেল, এ লেভেল পরীক্ষা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না বলে আদেশে বলা হয়েছে।
আদালতে চলমান তাপপ্রবাহে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মনির উদ্দিন।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো: সাইফুজ্জামান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রেহেনা সুলতানা, মো: সামিউল সরকার ও আশিক রুবায়েত।
রাজধানীতে এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামীকাল ও তাপমাত্রা এ রকমই থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, আজ রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকালের চেয়ে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৪৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায়, ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, এখন যে পরিস্থিতি, তাতে এ মাসে তাপমাত্রা খুব বেশি তারতম্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্তত আগামীকাল তাপমাত্রা এ রকমই থাকতে পারে।
চলতি মাসের প্রথম দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে শুরু করে। আজ মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত আছে। এটা ৭৬ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড। এর আগে গত বছর সর্বোচ্চ ১৬ দিন টানা তাপপ্রবাহ ছিল। আর ২০১০ সালের এপ্রিলে রাজশাহীতে ২০ দিন তাপপ্রবাহ বইলেও তা টানা ছিল না।
চলতি মাসের তাপপ্রবাহ শুধু টানা হিসাবে রেকর্ড গড়েনি, রেকর্ড গড়েছে বিস্তৃতির দিক থেকেও। দেশের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে তাপপ্রবাহ বইছে। চলতি এপ্রিলে কালবৈশাখী হয়েছে একটি। এটাও এপ্রিলে কম কালবৈশাখী হওয়ার ক্ষেত্রে দেশের ৪৩ বছরের ইতিহাসের রেকর্ড। ফলে তাপপ্রবাহ কমছে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানাচ্ছে, এ মাসে দেশজুড়ে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বৃষ্টির জন্য আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।