মালয়েশিয়ার ৬৯তম জাতীয় দিবস উদযাপনে আজ বর্ণিল সাজে সেজেছে রাজধানী পুত্রাজায়ার দাতারান রাজপথ। রাজা সুলতান ইব্রাহিম এবং রানী রাজা জারিথ সোফিয়া’র উপস্থিতিতে এ উদযাপন পেয়েছে বিশেষ রাজকীয় মাত্রা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সিংহাসনে আরোহণের পর এটিই ছিল জাতীয় দিবসের প্যারেডে রাজদম্পতির তৃতীয়বার উপস্থিতি।
সকাল ঠিক ৮টায় পুত্রাজায়ায় পৌঁছান মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ও রানি রাজা জারিথ সোফিয়া। অনুষ্ঠানস্থলে রাজদম্পতিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম, তাঁর সহধর্মিনী ডক্টর ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল এবং যোগাযোগ মন্ত্রী ফাহমি ফাজিল।
এসময় রাজকীয় বিউগুলের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চত্বর। এরপরই পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত ‘নেগারাকু’। একই সাথে আকাশের বুক চিরে মহড়া দেয় মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচটি হেলিকপ্টার, যার পেছনে উড়ছিল বিশাল আকৃতির জাতীয় পতাকা ও সশস্ত্র বাহিনীর নিশান।
সুলতান ইব্রাহিম রাজকীয় গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন, যা পরিচালনা করে সুংগাই বুলোহ ক্যাম্পের ‘রয়্যাল আর্টিলারি রেজিমেন্ট’-এর চৌকস সেনাদল।
“মালয়েশিয়া মাদানি: কেসেজাহতেরান দিনিকমাতি” বা “সমৃদ্ধির অংশীদারিত্ব”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের জাতীয় প্যারেডে অংশ নেয় ৭৬টি কন্টিনজেন্ট ও ২২টি ব্রাস ব্যান্ড। সুসজ্জিত ১০ হাজার ৮১৯ জন কুচকাওয়াজ সদস্যের অপূর্ব পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থী।
মালয়েশিয়ার ঐক্য, ঐতিহ্য এবং সার্বিক অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল আজকের এই জাঁকজমকপূর্ণ ৬৯তম জাতীয় দিবস। পুত্রাজায়ার এ রাজকীয় উদযাপনের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়াজুড়ে শুরু হলো মাসব্যাপী জাতীয় উৎসব ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার।
এদিকে, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল বলেছেন যে এই বছর জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজে ১ লাখের বেশি দর্শক অংশ নিয়েছিল। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে এবং যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।