জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনীতিক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস স্মরণ করেছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এ আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
গতকাল দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের উদ্যোগে একটি স্মারক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের পাশাপাশি জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। শুরুতেই তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় দেশের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই গণঅভ্যুত্থান জাতির দৃঢ় প্রত্যয় এবং ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের প্রতীক হয়ে থাকবে।
বক্তব্যে সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশলের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশনকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই কৌশলের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত করার পাশাপাশি জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত। আন্তর্জাতিক পরিসরে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারে বাংলাদেশ কাজ করে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্মারক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে আন্দোলনের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ ও তাৎপর্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।