ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর শিক্ষার সুযোগ দিতে যৌথভাবে একটি কর্মসূচি চালু করেছে মালয়েশিয়া ও জাপান। ছয় বছর মেয়াদি এই উদ্যোগ চলতি বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০৩২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এতে ১৫ থেকে ২০ জন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি মালয়েশিয়া (ইউটিএম) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) একটি চুক্তি সই করেছে। কর্মসূচির আওতায় বৃত্তির অর্থ দেবে জাইকা। আর ইউটিএম ও এর মালয়েশিয়া-জাপান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমজেআইআইটি) শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্বাবধান, গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ ও একাডেমিক সহায়তা দেবে।
মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ড. জামব্রি আবদুল কাদির বলেন, ফিলিস্তিন পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুধু ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। এর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে পাঠ করা এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন পুনর্গঠনের লক্ষ্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এর সঙ্গে মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
জামব্রি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ফিলিস্তিনের পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় প্রকৌশলী, গবেষক, শিক্ষক, পরিকল্পনাবিদ ও নেতৃত্ব তৈরি করতে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, জরুরি সেবা পুনরুদ্ধার, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সমাধান তৈরিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করতে পারে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।
তিনি আরও বলেন, এই কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা ইউটিএমের এমজেআইআইটিতে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া ও জাপানের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই উদ্যোগ।
জামব্রি বলেন, ‘মানবিক সহায়তা আজকের প্রয়োজন মেটায়, আর শিক্ষা গড়ে তোলে আগামী দিনের শক্তি।’
এর আগে ইউটিএমের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহদ শাফরি মোহদ রহিম বলেন, শিক্ষা ও সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে ইউটিএম ও জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেবে এই উদ্যোগ।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা বলেন, এই চুক্তি ফিলিস্তিনের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। তাঁর মতে, ভৌত অবকাঠামো পুনর্গঠনের মতোই মানবসম্পদ উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ।
কুয়ালালামপুরে ‘মালয়েশিয়া-জাপান স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: ইঞ্জিনিয়ারিং আ রেজিলিয়েন্ট প্যালেস্টাইন’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চুক্তিটি সই করা হয়। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত জেহাদ ফুয়াদ আলকদরা এবং জাপানের রাষ্ট্রদূত শিকাতা নোরিইউকি উপস্থিত ছিলেন।