শিরোনাম :
কেদাহতে চালচাষীদের সার সরবরাহে বিলম্ব: এমএসিসির তদন্ত শুরু জাকার্তায় আটকে পড়া মালয়েশিয়ানদের পাশে এক ইন্দোনেশীয় নারী নেপালে পৌঁছেছে মালয়েশিয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘স্মার্ট’ দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত কৃষকদের সুবিধার্থে ব্যর্থ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ

ভারতীয় সম্প্রদায়কে কষ্ট দেওয়ায় আবারও দুঃখ প্রকাশ আনোয়ার ইব্রাহিমের

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

সেরেমবান: ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের কষ্ট দেওয়ার মতো শব্দ ব্যবহারের জন্য আবারও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি স্বীকার করেছেন, নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ভুল শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।

বুধবার রাতে (২৯ জুলাই) সেরেমবানে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে ‘পিএমএক্স মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, কাউকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তবে ব্যবহৃত শব্দটি ভারতীয় সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

আনোয়ার বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি অব মালায়া আয়োজিত একটি ফোরামে আমি একটি অনুপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করেছিলাম। আমি এরই মধ্যে ক্ষমা চেয়েছি, কারণ কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ। কখনো কখনো কোনো উদ্দেশ্য না থাকলেও ভুল শব্দ ব্যবহার হয়ে যেতে পারে। নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং আন্তরিকতার পরিচয়।

আনোয়ার বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়া আমাকে ছোট করে না। দেশের পরিবর্তনের স্বার্থে আমি আন্তরিকভাবেই তা করি।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল, মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানান, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) নেতা এবং স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মালয়েশিয়াকে সব নাগরিকের দেশ হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ার বলেন, জাতিগত বিভাজন উসকে দিয়ে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষকে তাদের পূর্বপুরুষের দেশে ফিরে যেতে বলা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া সব মালয়েশীয় নাগরিকের। আমাদের সবার জন্য কাজ করতে হবে। আমি একজন মুসলিম। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অপমান করতে হয়, এমন শিক্ষা আমি কখনো পাইনি। আমি একজন মালয়। আমার বাবা-মাও আমাকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের অধিকার কেড়ে নিতে বা চীনা সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চালাতে শেখাননি।’

এদিকে, আনোয়ারের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্তকে তাঁর উদারতা ও নিজের ভুল স্বীকার করার মানসিকতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানবসম্পদমন্ত্রী রামানান।

তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা একজন প্রধানমন্ত্রী নিজের ভুল বা সীমাবদ্ধতার জন্য ক্ষমা চাইছেন, এটি বড় মনের পরিচয়।

রামানান বলেন, ‘ক্ষমা চাইতে হলে সত্যিই বড় মনের মানুষ হতে হয়। ব্যবসায়িক জগতের মতো সাধারণ ক্ষেত্রেও অনেক সময় আমরা নিজেদের খুব বড় মনে করে ক্ষমা চাইতে সংকোচ বোধ করি। অথচ একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছেন। এটি সত্যিই বড় মনের পরিচয়।’

একই সঙ্গে ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের কাজের মূল্যায়ন করে আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান রামানান। তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরকারের বাস্তব কর্মকাণ্ড বিবেচনা করা উচিত।

রামানানের দাবি, মালয়েশিয়ান ইন্ডিয়ান কমিউনিটি ট্রান্সফরমেশন ইউনিটের (মিত্রা) বরাদ্দ ১০ কোটি রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি রিঙ্গিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি নতুন তামিল স্কুল নির্মাণ এবং ১০ হাজারের বেশি নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কী কাজ বাস্তবে করা হয়েছে, তা দেখুন। সরকারের কর্মকাণ্ডের রেকর্ড মূল্যায়ন করেই আপনার সিদ্ধান্ত নিন।’

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »