মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যেন মানুষের মর্যাদা, ন্যায্যতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ২০২৭ সালের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করবেন তিনি। আগামী অক্টোবরের শুরুতে বাজেটটি পার্লামেন্টে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত ‘হিউম্যান ইকোনমি গ্লোবাল ডিসকোর্স ২০২৬’ এর উদ্বোধনী বক্তব্যে আজ আনোয়ার ইব্রাহিম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি দেশের অগ্রগতি মূল্যায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু এসব সূচক দিয়ে দেশের অগ্রগতি নির্ধারণ করা যায় না। অর্থনৈতিক নীতিতে ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ কাঠামোর মৌলিক নীতিগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাজেট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সেমিকন্ডাক্টর কৌশল, জ্বালানি রূপান্তর ও ডিজিটাল রূপান্তরের মতো বিষয়গুলোকে সুশাসন ও উন্নয়নের নৈতিক উদ্দেশ্য পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এটি শুধু স্লোগান হিসেবে ব্যানারে থাকার বিষয় নয়; নীতি, প্রতিষ্ঠান ও আচরণেও এর প্রতিফলন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু আবেগের ভিত্তিতে কোনো দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। মালয়েশিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনশীল ও বিনিয়োগবান্ধব থাকতে হবে। তবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল মানুষের উন্নত মজুরি, অর্থবহ কর্মসংস্থান, সাশ্রয়ী আবাসন, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতির সুযোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হতে হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতি নিজেই কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, এটি একটি মাধ্যম। এর উদ্দেশ্য শুধু উচ্চ প্রবৃদ্ধি, বেশি ভোগ বা সম্পদের বৃহত্তর কেন্দ্রীভবন নয়। বরং মানুষ যেন মর্যাদা, নিরাপত্তা, জীবনের উদ্দেশ্য ও আশার সঙ্গে বাঁচতে পারে—সেটিই অর্থনীতির মূল লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে মানুষের সুযোগ বাড়ছে, নাকি বৈষম্য আরও গভীর হচ্ছে—সরকারকে তা মূল্যায়ন করতে হবে। একইভাবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কর্মীদের ক্ষমতায়িত করছে, নাকি তাঁদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো, বৈষম্য ও বঞ্চনা বাড়ানো নয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মানুষের সুযোগ বাড়াচ্ছে কি না, পরিবার ও সমাজকে শক্তিশালী করছে কি না এবং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে মানুষকে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, এসব প্রশ্নও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান উপস্থিত ছিলেন।